Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরির টোপ দিয়ে আদায় করা টাকা জুয়ায় খাটাতেন জলপাইগুড়িতে ধৃত প্রীতম ঘোষ

চাকরির টোপ দিয়ে আদায় করা টাকা জুয়ায় খাটাতেন জলপাইগুড়িতে ধৃত প্রীতম ঘোষ
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চাকরির নামে আদায় করা লক্ষ লক্ষ টাকা অনলাইন জুয়ায় খাটাত প্রীতম ঘোষ। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে ধৃতের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কললিস্ট। 
Advertisement
এদিন ধৃতের জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন সেবাগ্রামের বাড়িতে হানা দেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, চাকরির জন্য প্রীতমকে বিভিন্ন সময়ে তাঁরা মোটা টাকা দিয়েছেন। টাকা ফেরতের দাবি জানান তাঁরা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আগেই অস্বীকার করেছে ধৃত ওই যুবক। 
বুধবার রাতে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রীতমকে গ্রেপ্তারের পর থানাতেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বলে পুলিসকে জানান। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, ধৃত যুবক জুয়া খেলতেন বলে খবর আছে। হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে সবটা স্পষ্ট হবে। 
ধৃত যুবক নিজেও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। নিজেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইঞ্জিনিয়ারিং সেলের চিফ কো-অর্ডিনেটর বলে পরিচয় দিয়ে চাকরির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করতেন বলে অভিযোগ। কখনও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সই জাল করে ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতেন। কখনও আবার খোদ তৃণমূলের জেলা সভানেত্রীর নাম ভাঙিয়ে মোটা টাকায় সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিতেন শিক্ষিত, বেকার ছেলেমেয়েদের। 
এখনও পর্যন্ত পুলিস যতটুকু জানতে পেরেছে, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার অন্তত ১০-১৫ জনের কাছ থেকে ওই যুবক চাকরির নাম করে মোটা টাকা হাতিয়েছেন। মূলত কলেজ পড়ুয়ারাই ছিল টার্গেট। কাউকে বনদপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিতেন, কাউকে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র কিংবা সরকারি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরির টোপ দিতেন। 
অভিযোগ, কয়েক বছর ধরেই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে টাকা দিয়েছেন, এমন কয়েকজন বুধবার দুপুরে প্রীতমকে মাসকলাইবাড়িতে ডাকিয়ে আনেন। সোজা কথায় তিনি আসবেন না জেনে নতুন করে প্রীতমকে টোপ দেন তাঁরা। বলেন, আরও দু’জন আছে, যারা চাকরির জন্য টাকা দিতে রাজি। অভিযোগকারীদের দাবি, টোপ দিতেই প্রীতম জানান, চাকরি পিছু দু’লক্ষ টাকা লাগবে। সেইমতো কথাবার্তা বলে তাঁকে ডাকিয়ে এনে সবাই মিলে পাকড়াও করে। তারপর তুলে দেওয়া হয় পুলিসের হাতে। এদিকে, প্রীতমের সঙ্গে দল কিংবা দলের ছাত্র সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলে বুধবারই জানিয়ে দিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
সম্পর্কিত সংবাদ