Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরির নামে স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে কোটি টাকার বেশি প্রতারণা, গ্রেপ্তার দুই  

চাকরির নামে স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে কোটি টাকার বেশি প্রতারণা, গ্রেপ্তার দুই
 
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বেলদা: স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে চাকরি দেওয়ার চুক্তি! বেকারদের মনে বিশ্বাস জোগাতে অভিনব এই পদ্ধতিতেই চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ। ঘটনায় শুক্রবার রাতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বেলদা থানার পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, কোটি টাকার বেশি প্রতারণা হয়েছে। জেলার এক পুলিস আধিকারিক জানান, এই প্রতারণাচক্রের জাল আরও অনেক বিস্তৃত। ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পাবে। তবে এটা যে হিমশৈলের চূড়ামাত্র, তা মানছেন তদন্তকারী পুলিস আধিকারিকরা।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম শক্তিপদ দাস এবং গোবর্দ্ধন হেমব্রম। দু’জনেরই বাড়ি বেলদা থানার ফতেপুর গ্রামে। এই গোবর্দ্ধন হেমব্রম এক সময় বেলদার রানিসরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। পুলিস জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে পূর্ব, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাশাপাশি কলকাতারও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। কয়েকদিন আগেই বেশ কিছু তরুণ-তরুণী ও তাঁদের অভিভাবকরা বেলদা এবং দাঁতন থানায় বিষয়টি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পরে একজন প্রতারিত বেলদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিস। প্রতারণার শিকার যুবকরা জানান, বিড়লা, এল অ্যান্ড টি-সহ একাধিক সংস্থায় সুপারভাইজার, কম্পিউটার অপারেটর, গ্রুপ ডি-সহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। চুক্তিপত্রে, পদ অনুযায়ী কারও ১৫ হাজার টাকা, কারও ২১ হাজার টাকা বেতনের উল্লেখ রয়েছে। চাকরির বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে সাত থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
 কে এই টাকা নেয়? পুলিস তদন্তে নেমে প্রথমে খোঁজ পায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা থানার কসবা গ্রামের নারায়ণ হাতির। দিন তিনেক আগে তাকে গ্রেপ্তার করে বেলদা থানার পুলিস। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক চুক্তিপত্র। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বেলদার শক্তিপদ দাস এবং গোবর্দ্ধন হেমব্রমের নাম উঠে আসে। যারা স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। পুলিস জানিয়েছে, এদের কাজ ছিল স্থানীয় যুবক-যুবতীদের বুঝিয়ে নারায়ণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তারপর চাকরি প্রার্থীদের দেওয়া টাকা ভাগ করে নিত। শুধু বেলদা থানা এলাকাতেই ৪০০ জনের বেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 
পুলিসের অনুমান, দাঁতন ও এগরা থানা এলাকাতেও বহুজন প্রতারিত হয়েছেন। এর বাইরে আরও কতজন প্রতারিত হয়েছেন, তা এখনও অজানা। এই চক্রের চাঁইদের ধরার পাশাপাশি কতজন প্রতারিত হয়েছেন এবং কত টাকা তোলা হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। শনিবার ধৃত দু’জনকে দাঁতন আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৫দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃত দু’জনকে নিয়ে আগেই গ্রেপ্তার নারায়ণ হাতির মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছে পুলিস।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ