Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেকে সই করছেন না স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি, বন্ধ মিড ডে মিল

চেকে সই করছেন না স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি, বন্ধ মিড ডে মিল
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি তিন মাস ধরে চেকে সই করেননি। যার ফলে ৮ জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল বন্ধ। বিদ্যালয়ের পাঁচ অস্থায়ী কর্মী তিন মাস ধরে বেতন পাননি বলেও অভিযোগ। সবমিলিয়ে রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের নিলডি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে ব্লক, মহকুমা ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
Advertisement
রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বজিৎ হেমব্রম বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি অক্টোবর মাস থেকে চেকে সই করেননি। তার জন্য বিদ্যালয়ের প্রচুর কাজ আটকে গিয়েছে। বিষয়টি জানার পর সমস্যা সমাধানের জন্য দু’ বার পরিচালন কমিটিকে নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। দু’টি মিটিংয়েই সভাপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়। কিন্তু তিনি আসেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল থেকে শুরু করে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন, ইলেকট্রিক বিল, সেল্ফ হেল্প গ্রুপের মহিলাদের বেতন থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ে যে কোনও কাজের জন্য সরকার থেকে বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা তোলা হয় চেকের মাধ্যমে। চেকে বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতির সই লাগে।
সমস্যার সমাধানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২ ডিসেম্বর পরিচালন কমিটির সভা ডাকেন। তার জন্য সভাপতিকে ২৬ নভেম্বর চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি আসেননি। পরে ৬ জানুয়ারি ফের মিটিং ডাকা হয়। সেখানেও সভাপতি আসেননি। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রশান্ত মণ্ডল ফোনে জানিয়েছেন, তিনি এলাকায় না থাকায় দু’টি মিটিংয়ে হাজির হতে পারেননি। খুব শীঘ্রই স্কুলের সমস্যার সমাধান হবে।  
বর্তমানে বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। যার মধ্যে ৩৩৫ জন ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল পায়। পড়ুয়া বিষ্ণু বাউরি, পায়েল বাউরি বলে, মিড ডে মিল বন্ধ থাকায় খাবার খেতে আমাদের বাড়ি যেতে হয়। খুব অসুবিধা হয়। আমরা চাই মিড ডে মিল চালু হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণবকুমার নিয়োগী বলেন, তিন মাস ধরে বিদ্যালয়ের প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিল বাকি পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের পাঁচ জন অস্থায়ী কর্মী (দুজন শিক্ষক, একজন নৈশ প্রহরী, একজন গ্রুপ ডি, একজন ঝাড়ুদার) তিন মাস বেতন পাননি। সভাপতিকে ফোন করা হলেও ফোন তুলছেন না।
নিলডি গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা অভিভাবক বাবলু মণ্ডল বলেন, একজন সভাপতির জন্য বিদ্যালয়ের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের অসুবিধার কথা সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও পঙ্কজ দাস বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। সভাপতি না এলে অন্যভাবে কাজ করা সম্ভব হয় কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ