Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেক জালিয়াতি! পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব সাড়ে ১৪ লক্ষ, রহস্য

চেক জালিয়াতি! পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব সাড়ে ১৪ লক্ষ, রহস্য
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: এবার পুরসভার ‘ভাণ্ডারে’ হানা দিল জালিয়াতরা। তিন দফায় বালুরঘাট পুরসভার চেক জাল করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। জালিয়াতরা গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর ওই টাকা তুলে নিয়েছে। আকস্মিক সরকারি ফান্ড থেকে টাকা গায়েবের এই খবরে শোরগোল বালুরঘাট শহরে। পুলিস ও পুরসভা সূত্রে খবর, এই কাজে চেকের নম্বরও হুবহু নকল করা হয়েছে। পুরসভার সই, সিল জাল করেই বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়। নাটকীয়ভাবে সরকারি সেই টাকা ঢুকেছে 
Advertisement
তিন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। গোটা ঘটনায় বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পুরকর্তৃপক্ষই। চেক জাল করে কীভাবে এই টাকা তোলা হল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেও চিঠি দিয়েছে বালুরঘাট পুরসভা। 
বৃহস্পতিবার পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, চেকগুলি আমাদের কাছেই রয়েছে। কিন্তু সেই চেক নকল করে কেউ এই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিয়েছে। আমরা ওই ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়েছি। কীভাবে এই টাকা অন্য কেউ তুলে নিল, সেটা তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আমাদের মনে হয়, এরসঙ্গে প্রতারণা চক্র জড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিসে অভিযোগ জানিয়েছি। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বলেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক থেকে এই লেনদেন হয়নি। বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে পুরসভা একটা অভিযোগ জানিয়েছে। সেটাই তদন্ত করে দেখছি। 
পুরসভা সূত্রে খবর, সরকারি নানা প্রকল্পের টাকা ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ছিল। টাকার পরিমাণ বেশি হলে এনইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে ওই চেকবই পুরসভার অ্যাকাউন্ট সেকশনেই ছিল। সেখান থেকেই তিনটি চেক জাল করা হয় বলে সন্দেহ। ১২ নভেম্বর প্রথম দফায় ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৪৬ টাকা তোলা হয় একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। পরের দিন ১৩ নভেম্বর ৪ লক্ষ ৮২ হাজার ৪৩৬ টাকা তোলা হয়েছিল অন্য একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। সবমিলিয়ে ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৬৮ টাকা পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে থানার তদন্তকারী অফিসাররা পুরসভা ও ব্যাঙ্কের নথি ঘেঁটে দেখছেন। 
পুলিসের অনুমান, সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে পুরসভারই কেউ জড়িত থাকতে পারে। মনে করা হচ্ছে, এটি একটি বড় চক্রের কাজ। পুলিস ওই  দুই অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিচ্ছে। কোন ব্রাঞ্চ এবং অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা তোলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। বালুরঘাটবাসীর দাবি দ্রুত এই ঘটনার নিষ্পত্তি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ