Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিহারে বিস্ফোরক চিরাগ পাসোয়ানও, বিজেপিতে অনাস্থা বাড়ছে শরিকদের!

‘এই সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ বাড়ছে। ভেঙে পড়েছে আইনের শাসন।’ বিহার সরকার সম্পর্কে এই মন্তব্য কোনো বিজেপি বিরোধী দলের নয়, খোদ এনডিএ শরিক চিরাগ পাসোয়ানের।

বিহারে বিস্ফোরক চিরাগ পাসোয়ানও, বিজেপিতে অনাস্থা বাড়ছে শরিকদের!
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এই সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ বাড়ছে। ভেঙে পড়েছে আইনের শাসন।’ বিহার সরকার সম্পর্কে এই মন্তব্য কোনো বিজেপি বিরোধী দলের নয়, খোদ এনডিএ শরিক চিরাগ পাসোয়ানের। আর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। চিরাগ বারবার বলে এসেছেন, তিনি হলেন নরেন্দ্র মোদির হনুমান সদৃশ অনুগত। সেই ভক্তি চিরকাল থাকবে। হঠাৎ সেই চিরাগ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন! তাহলে কি বিদ্রোহ বিহার থেকেই শুরু? যখনই শাসক জোটের বৃহৎ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে জন অসন্তোষ তৈরি হয়, সবার আগে দূরত্ব বাড়ায় শরিকরা। অর্থাৎ সরকার অথবা শাসক জোট বিপদে পড়লে জোট শরিকেরা সেই অসন্তোষের আঁচ থেকে আগে নিজেকে বাঁচাতে চায়। সেই প্রবণতার সূত্রপাত কি শুরু হয়েই গেল? 

Advertisement

এনডিএ’র অন্যতম শরিক লোকজনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) সুপ্রিমো ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান কয়েকদিন ধরেই বেসুরো। বিরোধী দলগুলির নির্বাচন কমিশন বিরোধী লাগাতার আক্রমণে তিনিও সুর মিলিয়েছেন। বলেছেন, ‘কমিশনের উচিত ধোঁয়াশা উড়িয়ে স্পষ্ট করা, আদতে কী ঘটেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি ভোট। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি হওয়া উচিত নয়। সেটি যে নিছক বিক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল না, তা পরিষ্কার করে দিলেন চিরাগ। রবিবার রাতে তিনি সরাসরি আক্রমণ করলেন বিহারের বিজেপি সরকারকে। এনডিএ শরিক হিসাবে যে সরকারের অঙ্গ তিনিও। এমনকি তাঁর দলের মন্ত্রীও রয়েছেন ওই সরকারে। বিহারে উপর্যুপরি নারী নির্যাতন ও আইন-শৃঙ্খলা অবনতির প্রসঙ্গ তুলে চিরাগ বলেছেন, ‘আমার রীতিমতো লজ্জা লাগছে যে, আমি এমন একটি সরকারের অংশ হয়ে রয়েছি। যে সরকারের আমলে মহিলাদের উপর অত্যাচার একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে, তাদের উপর জনতার আস্থা থাকে না।’ পাটনায় আয়োজিত এক মিডিয়া কনক্লেভে এই মন্তব্য করেছেন চিরাগ পাসোয়ান। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি আপনি জোট ছাড়ছেন? মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন? চিরাগ উত্তরে বলেন, ‘বিহারের স্বার্থ সবার উপরে। আমাকে সরকার থেকে বের করে দিন। আমাকে মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত করুন। আমি কিন্তু প্রশ্ন করবই।’ অতএব যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। রাষ্ট্রীয় জনতা দল অবশ্য চিরাগ পাসোয়ানকে কটাক্ষ করে বলেছে, ক্ষমতার মধু উপভোগও করব, আবার মাঝে মাঝে একটু সমালোচনাও করব, এরকম দ্বিচারিতা চলে না। এসব মুখরক্ষার ফরমুলা মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল চিরাগ পাসোয়ানকেই আক্রমণ করে বলেছে, তাঁর উচিত নিজের দলের অপরাধমূলক কাজকর্ম খতিয়ে দেখা। তারপর সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা। 
অর্থাৎ বিহারে এনডিএ শরিকদের মধ্যেই মতান্তর তুঙ্গে। লোকসভা ভোট দু’বছর পর হতে পারে, অশনিসংকেত কিন্তু আগে থেকেই পাওয়া যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ