Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অফিস টাইমে বিকল চীনা রেক, এক ঘণ্টা বন্ধ টালিগঞ্জ-ক্ষুদিরাম মেট্রো, দুর্ভোগ

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের অফিস টাইমে ব্যাহত হল মেট্রো পরিষেবা। এক ঘণ্টা বন্ধ থাকল শহরের ‘লাইফলাইন’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অফিস টাইমে বিকল চীনা রেক, এক ঘণ্টা বন্ধ টালিগঞ্জ-ক্ষুদিরাম মেট্রো, দুর্ভোগ
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের অফিস টাইমে ব্যাহত হল মেট্রো পরিষেবা। এক ঘণ্টা বন্ধ থাকল শহরের ‘লাইফলাইন’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাজার হাজার অফিসযাত্রী, সাধারণ যাত্রী চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হলেন। 

Advertisement

সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে আপ লাইনে দক্ষিণেশ্বর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে যাত্রীবোঝাই একটি রেক (এম আর ৫১৩)। ট্রেনটির সামনের অংশ যখন কবি নজরুল মেট্রো স্টেশনে ঢুকেছে, তখনই আচমকা বিগড়ে যায় চীন থেকে আমদানি করা রেকটি। করিগরি কারণেই থমকে যাওয়া রেকটি আর সামনে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না। অগত্যা ব্যস্ত সময়ে ভিড়ে ঠাসা রেক থেকে যাত্রীদের নেমে আসার আবেদন করা হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। তাঁদের সঙ্গে মেট্রোর কর্মীদের বচসা-তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ওই রেক থেকে নেমে আসা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না যাত্রীদের। পরে খালি রেকটি মেরামতির জন্য কবি সুভাষ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে আপ লাইনে মেট্রো চলাচল পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রভাব পড়ে ডাউন লাইনেও। ফলস্বরূপ গোটা মেট্রো রুটের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে। 
শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার (টালিগঞ্জ) পর্যন্ত মেট্রো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে মেট্রো বন্ধ হওয়ার খবর সঠিক সময়ে ঘোষণা করা হয়নি। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সময়সূচি মেনে মেট্রোর পরিষেবা মিলছে না বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। অসন্তোষের সেই ছাইচাপা আগুন এদিন স্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্টেশনে মেট্রোর কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা। মেট্রোর চাকা থমকে যাওয়ার মওকা বুঝে অটো, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাব কয়েকগুণ বেশি ভাড়া হেঁকেছে। সকাল ১০টা নাগাদ কবি সুভাষ থেকে নতুন একটি খালি রেক শহিদ ক্ষুদিরামে আসে। ফের সম্পূর্ণ রুটে পরিষেবা চালু হয়। তবে দীর্ঘ এক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকার প্রভাব মেট্রোপথে থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ। পরিষেবা শুরু হলেও বিভিন্ন স্টেশনে বারবার থমকেছে মেট্রোর মসৃণ গতি। তা নিয়ে যাত্রীরা অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বহু যাত্রীর অভিযোগ, সকালের ওই ঘটনার প্রভাব ছিল সারাদিনই। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকের মেট্রো পরিষেবায় গুরুতর খামতির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে ডিসপ্লে বোর্ডে পরবর্তী মেট্রো আসার সময় দেখে তাতে ওঠার প্রস্তুতি নেন যাত্রীরা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওই সূচি মেলেনি। এক থেকে তিনটি মেট্রো বাতিল করা হয়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্টেশনে স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষার প্রহর। 
এদিকে, এদিন বিকেলে নর্থ-সাউথ ও ইস্ট-ওয়েস্ট রুটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসেন কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর। তিনি হাওড়া ময়দান থেকে মেট্রো চড়ে এসপ্ল্যানেডে নামেন। মেট্রোর শীর্ষকর্তাকে সামনে পেয়ে পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন খামতির দিকগুলি তুলে ধরেন ব্লু লাইনের যাত্রীরা। এরপর তিনি এসপ্ল্যানেড থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ যান।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ