Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ভারতকে পাশে চেয়েই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি চীনের

পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তাই আর কাঁকড়ার লড়াই নয়।

ভারতকে পাশে চেয়েই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি চীনের
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেজিং (পিটিআই): পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তাই আর কাঁকড়ার লড়াই নয়। বরং ‘ড্রাগন ও হাতির’ ব্যালে নাচ দেখুক দুনিয়া। সময়ের দাবি মেনে সেটাই হবে ‘উপযুক্ত পথ’। শুক্রবার এই ভাষাতেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উই, যা পরোক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে গোটা বিশ্ব। আমেরিকা-চীন শুল্কযুদ্ধ ও ইউক্রেন সঙ্কটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণে আমূল বদলের ইঙ্গিত আসছে। রীতিমতো ‘ঠান্ডাযুদ্ধে’র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুই ‘সুপার পাওয়ারে’র মধ্যে। সেই জল্পনা আরও বাড়িয়েছে চীনের বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিবৃতি। বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা যুদ্ধ চাইলে বেজিংও প্রস্তুত রয়েছে। শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়েই হোক বা অন্য যে কোনও যুদ্ধ—শেষ দেখে ছাড়বে চীন।’ এই প্রেক্ষিতেই বিরোধিতা ভুলে নয়াদিল্লির প্রতি বেজিংয়ের এই বন্ধুত্বের বার্তা নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এবিষয়ে ভারত সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে একদিন আগে দু’দেশের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। এবার একধাপ এগিয়ে চীনা বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘গ্লোবাল সাউথ’ গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চীন একযোগে ‘আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতি’র বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিতে পারে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, নাম না করে আমেরিকার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধে ভারতকে পাশে চাইছে চীন।

Advertisement

ওয়াং উই বিদেশমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্যও। শুক্রবার বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, পরস্পরকে টেনে নীচে নামানোর বদলে ভারত ও চীনের সহযোগিতার পথেই হাঁটা উচিত। এবং এই অবস্থানের সপক্ষে হাজারো কারণ রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের শীতলতা কাটিয়ে ওঠার পর এখন বেজিংয়ের মনোভাব কী? দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবার কোন পথে এগনো উচিত? জবাবে ওয়াং উইয়ের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘সহযোগিতার পরিবেশে ড্রাগন ও হাতির ব্যালে নৃত্যই দু’দেশের জন্য একমাত্র উপযুক্ত রাস্তা।’
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গলওয়ানে ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালায় লাল ফৌজ। সেনা সংঘর্ষের জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি হয়। দফায় দফায় সীমান্ত বৈঠক চলে। শেষপর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর পর, ২০২৪ সালে যাবতীয় জটিলতার অবসান হয়। সেই প্রসঙ্গেই চীনের বিদেশমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ওই সাফল্যের ফলে ভারত-চীন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। গত অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। সেই আলোচনার টেবিলই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও উন্নতির দিশা দেখিয়েছে। এর মধ্যে যাতে সীমান্ত বা অন্য যে কোনও বিষয়ে মতবিরোধের ছায়া কোনওভাবেই না পড়ে, সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ভারত ও চীন হাত মেলালে আন্তর্জাতিক স্তরে বৃহত্তর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আছে। ফলে আরও শক্তিশালী হবে গ্লোবাল সাউথ।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ