Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঊষাগলির হলদে বাড়িতে জড়িয়ে শৈশব, ছ’মাস আগেও এসেছিলেন শংকর

জিটি রোড ধরে শিবপুর ট্রাম ডিপো ছাড়িয়ে খানিক এগলেই ডানদিকে পড়ে লোকনাথ চ্যাটার্জি লেন। লোকমুখে যার নাম ঊষাগলি। সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে রং হারানো এই গলিটা আজও আগলে রেখেছে পুরনো হাওড়ার গন্ধ

ঊষাগলির হলদে বাড়িতে জড়িয়ে শৈশব, ছ’মাস আগেও এসেছিলেন শংকর
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জিটি রোড ধরে শিবপুর ট্রাম ডিপো ছাড়িয়ে খানিক এগলেই ডানদিকে পড়ে লোকনাথ চ্যাটার্জি লেন। লোকমুখে যার নাম ঊষাগলি। সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে রং হারানো এই গলিটা আজও আগলে রেখেছে পুরনো হাওড়ার গন্ধ। কিছু পুরনো বাড়ি, কিছু বিবর্ণ বারান্দা, আর স্মৃতির স্তর নিয়ে নীরব দুপুর। সব মিলিয়ে সময় যেন এখানে একটু থমকে দাঁড়ায়। সেই গলিরই এক প্রান্তে হলদে রঙের দোতলা বাড়ি। বাড়িটির উঠোন আজ যেন বেশি নিস্তব্ধ। এখানেই এক সময়ে বাস করতেন সদ্যপ্রয়াত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, বাঙালির ‘শংকর’। আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ব্যস্ত হাওড়ার এই নীরব গলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। লোকনাথ চ্যাটার্জি লেনেরই বাসিন্দা প্রবীণ চিকিৎসক তুষারকান্তি পাল। আশি পেরিয়েও নিয়মিত চেম্বারে বসেন। তাঁর পাশের বাড়িতেই একদা থাকতেন শংকর। স্মৃতিচারণে তুষারবাবু জানান, বর্তমানে ওই বাড়িতে একাই থাকেন সাহিত্যিকের বউদি রমা মুখোপাধ্যায়। মাঝেমধ্যে মেয়ে আসেন। মাস ছয়েক আগেও নাকি শেষবার এসেছিলেন ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা। তখনও দু’জন প্রবীণের মধ্যে গল্প হয়েছিল– পুরনো দিনের, পাড়ার, মানুষের। তুষারবাবুর কথায়, এক সময় এই এলাকা চ্যাটার্জি পরিবারের সম্পত্তি ছিল। আশির দশকে অনেকেই এখানে বসতি গড়েন। শংকরও বাড়ি করেছিলেন, যদিও পরে চলে যান বালিগঞ্জে। তারও আগে মধ্য হাওড়ার কালীবাবুর বাজারে কেটেছে তাঁর শৈশব। পড়াশোনা কাসুন্দিয়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনে।

Advertisement

পাড়ার আরেক প্রবীণ দিব্যেন্দুকুমার ঘোষ বলেন, তখনও শংকর হয়ে ওঠেননি তিনি। সাহিত্যচর্চা করতেন। কে জানত, এই গলি থেকেই একদিন জন্ম নেবে ‘জন অরণ্য’-এর লেখক! শোনা যায়, বাড়ির দোতলার ঝুলবারান্দায় একটি কাঠের চেয়ারে মাঝেমধ্যে চুপচাপ বসে থাকতেন তিনি। আজ সেই বারান্দা, সেই বাড়ি নীরব। হয়তো নিঃশব্দে স্মৃতিচারণ করছে লেখকের। ব্যস্ত শহরে একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে এই বাড়ি। তবু ঊষাগলির বাতাসে রয়ে যাবে এক লেখকের নিঃশব্দ 
উপস্থিতি। 

সম্পর্কিত সংবাদ