আসানসোলে শিশু পাচার, বিহার চক্রের তিনজন জালে
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুপুরবেলা গমগমে ভিড় না থাকলেও যথেষ্টই লোকজন ছিল আসানসোল স্টেশনে। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ডিউটি করছিলেন আরপিএফের সাব ইনস্পেক্টর শুভ্রা দে। সেই সময়ে বক্সার থেকে পাটনা হয়ে আসানসোলে ঢোকে টাটানগর এক্সপ্রেস। জেনারেল কামরা থেকে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামে এক বৃদ্ধা। তার কোলে কাপড়ে মোড়া এক সদ্যোজাত। বৃদ্ধার সঙ্গী এক যুবক। দুজনে ইতিউতি ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের চালচলন আর সদ্যোজাতর সঙ্গে তার মা না থাকা— এই দু’টি বিষয় খটকা জাগায় শুভ্রার মনে। তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদে যা বেরিয়ে আসে, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় আরপিএফের সাব ইনস্পেক্টরের। পর্দা ফাঁস হয় বিহারের এক শিশুপাচার চক্রের। মাত্র ১৫ দিন বয়সি এক শিশুকন্যাকে পটনা হাসপাতাল থেকে অণ্ডালে পাচার করা হচ্ছিল। ওই পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালের এক শ্রেণির কর্মী থেকে শুরু করে তাদের আত্মীয়রাও। এই চক্রটি আগেও শিশু পাচার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বৃদ্ধার নাম ঊষা দেবী। শুরুতে অবশ্য বৃদ্ধা নিজেকে শিশুটির দিদিমা বলে পরিচয় দিয়েছিল। সঙ্গী যুবক ঝলকদেব প্রসাদকে জামাই হিসেবে পরিচয় পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু বৃদ্ধা ও যুবকের কথায় নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করে তাদের আরপিএফ আউট পোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টানা জেরাতেই ভেঙে পড়ে নিজেদের পাপ উগরে দেয় বৃদ্ধা। তাদের আর এক সঙ্গী মীনা দেবীকেও নিয়ে আসা হয় আউট পোস্টে। জানা যায়, ঝলকদেব প্রসাদের স্ত্রী পটনা হাসপাতালে কাজ করে। সেই হাসপাতাল থেকে এই সদ্যোজাতকে জোগাড় করে দিয়েছে। তাদের থেকে ২০ হাজার টাকায় শিশুকন্যাকে কিনেছে ঊষা দেবী। মীনা দেবী ঝলকদেবের শাশুড়ি। ঊষা দেবীর দাবি, সে বিধবা ও নিঃসন্তান। একাকীত্ব দূর করতেই সদ্যোজাতকে কিনেছে। কিন্তু আরপিএফ সে কথা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেনি। তাঁদের সন্দেহ, ওই বৃদ্ধা ফের কাউকে ওই সদ্যোজাতকে বিক্রি করত। 

Advertisement

স্ত্রীর হাসপাতালে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঝলকদেব শিশু পাচারের কারবারে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে। কখনও মা, কখনও শাশুড়ি সেজে তাকে সাহায্য করে মীনা দেবী। একাধিক মহিলা থাকলে পুলিসের নজর এড়ানো যাবে বলেই তারা মনে করেছিল। আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার রাহুল রাজ বলেন, শিশু পাচারের একটি চক্র ধরা পড়েছে। তিন অভিযুক্তকে জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি জিআরপির কাছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ১৫ দিনের কন্যা সন্তানটিকে উদ্ধার করে হোমে রাখা হয়েছে। তার শরীরের খেলায় রাখা হচ্ছে। 
এদিকে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্য বিহারে সুশাসন নিয়ে অনেক কথাই বলেন নীতিশ কুমার ও তাঁর জোটসঙ্গী বিজেপি। অথচ সেই রাজ্যেই হাসপাতালের ভিতরে এক শ্রেণির কর্মীরা শিশু পাচার চক্র খুলে বসেছে। বিহারের হাসপাতালগুলিই কি তাহলে শিশু পাচারের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের আইনশৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতি কি পুরোটাই ভাঁওতা, উঠছে এইসব প্রশ্নও।  ধৃত অভিযুক্তরা।-নিজস্ব চিত্র