সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ভর্তি করে দু’সপ্তাহ ধরে ফেলে রাখা হয়েছে দু’বছরের এক শিশুকন্যাকে। এখনও তার অস্ত্রোপচার হয়নি। কেন অস্ত্রোপচার হচ্ছে না, কবে হবে জানতে চাওয়ায় ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করলেন ওই শিশুর বাড়ির লোকেরা। শিলিগুড়ি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষীনগরের বাসিন্দা মিনতি পাসোয়ান বৃহস্পতিবার হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাসের কাছে এই সমস্যার কথা জানিয়ে শিশুটির অস্ত্রোপচার দ্রুত করার আবেদন জানান।
মিনতিদেবীর অভিযোগ, ২৩ মে তাঁর নাতনিকে ভর্তি করা হয়েছে ফিমেল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে। জন্মের সময় থেকেই শিশুটির মলদ্বার নেই। পেট ছিদ্র করে নল লাগিয়ে সেখান দিয়ে মল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। সেজন্য তিনি এর আগে তিন বার নাতনিকে মেডিক্যালে ভর্তি করে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ২৩ মে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো ফের ভর্তি করেছেন। কিন্তু দেখতে দেখতে দু’সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আজও অস্ত্রোপচার হয়নি।
মিনতি পাসোয়ান বলেন, আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। অস্ত্রোপচার করতে কেন দেরি করা হচ্ছে, কবেই বা হবে তা জানার জন্য ওয়ার্ডের ডাক্তারদের জিজ্ঞেস করলেই তাঁরা দুর্ব্যবহার করছেন। কোনও কিছুই পরিষ্কার করে বলছেন না। এতে আমরা আরও চিন্তায় পড়ে গিয়েছি।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক সার্জারির আলাদা কোনও বিভাগ নেই। সাধারণ অস্ত্রোপচার বিভাগের সঙ্গেই দু’জন অর্থোপেডিক্স সার্জেন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পেডিয়াট্রিক সার্জনের অভাবে বিভিন্ন সময়ে শিশুদের অস্ত্রোপচার নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ উঠছে। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, এধরনের মলদ্বারের ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুর অস্ত্রোপচার করার ক্ষেত্রে অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভ্যাকসিনেশনের প্রয়োজন থাকে। সেকারণে দেরি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
এদিকে এদিন ওই শিশুর ঠাকুমা দূর্ব্যবহারের অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপাচারের আবেদন করার পর অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাস শল্য চিকিৎসক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গৌতমবাবু বলেন, ওই শিশুর কিছু চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। পেডিয়াট্রিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চিকিৎসা চলছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষারও কিছু বাকি রয়েছে। সে কারণেই অস্ত্রোপচার করতে দেরি হচ্ছে।
এদিকে অর্থোপেডিক সার্জেনের অভাবের কথা স্বীকার করেন অধ্যক্ষ বলেন, মাত্র দু’জন পেডিয়াট্রিক সার্জেন দিয়ে এত বড় হাসপাতাল সামাল দিতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তো হতেই পারে।