সিসিইউর মধ্যেই বিশেষ পদ্ধতিতে প্রসব, ২ প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকরা
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: ভেন্টিলেশনে থাকা অন্তঃসত্ত্বার প্রসব করাতে সিসিইউয়ের মধ্যেই তৈরি করা হল অস্থায়ী প্রসবকক্ষ। সেখানেই ফরসেপস পদ্ধতিতে জন্ম নিল পুত্রসন্তান। জন্মের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এসএনসিইউতে চিকিৎসার পর তার কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। দু’দিন পর জ্ঞান ফেরে মায়েরও। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও সন্তান দু’জনকেই সুস্থ করে তুলল বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল। শুক্রবার পর্যন্ত দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাড়ুইয়ের বাসিন্দা ১৯ বছরের ঠান্ডামুনি সোরেনের এটি প্রথম সন্তান। গত শনিবার লক্ষ্মীপুজোর দিন হঠাৎ তাঁর তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। চোখের সামনে ঝাপসা দেখতে থাকেন। স্বামী কনক হেমব্রম সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে প্রায় ১৫কিলোমিটার দূরের বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি ভিত্তিতে ভরতি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে। রোগীর অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিল যে, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়। মা ও সন্তানের জীবন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছয় সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। কৃত্রিমভাবে প্রসব যন্ত্রণা শুরু করার ওষুধ প্রয়োগের পর ফরসেপস পদ্ধতিতে প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
সিসিইউয়ের মধ্যেই নার্সিংকর্মীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করেন। বেডের চারপাশে পর্দা দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয় অস্থায়ী প্রসবকক্ষ। সেখানেই জন্ম নেয় শিশু। জন্মের পর তাকে এসএনসিইউতে পাঠানো হয়। চিকিৎসার পর শিশুটি কেঁদে ওঠে। দু’দিন সংজ্ঞাহীন থাকার পর জ্ঞান ফেরে ঠান্ডামুনির। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। ভেন্টিলেশন থেকে তাঁকে মুক্ত করা হয়। 
কনক বলেন, সরকারি হাসপাতালে যেভাবে চিকিৎসকরা স্ত্রী ও সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। চিকিৎসক ও নার্সদের পরিষেবায় আমরা অত্যন্ত খুশি। 
হাসপাতালের এক নার্সিংকর্মীর কথায়, সিসিইউয়ের মধ্যে প্রসব, তাও আবার ফরসেপস পদ্ধতিতে বোলপুরে এমন ঘটনা এই প্রথম।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার দিবাকর সর্দার বলেন, ওই রোগী যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। তাঁকে ও সন্তানকে বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পরিবারকেও পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল। তবে দ্রুত মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেন। সিসিইউয়ের মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় প্রসব করানো হয়। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও সন্তান দু’জনকেই সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সরকারি হাসপাতালেও উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক বছরে হাসপাতালে প্রসূতি ও সদ্যোজাতের চিকিৎসা পরিষেবার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।