রায়গঞ্জেই এইমস, ঘোষণা শুভেন্দুর, জলপাইগুড়িতে হবে ক্যানসার হাসপাতাল
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে স্বপপূরণ। রায়গঞ্জেই হবে এইমস হাসপাতাল। একদা এইমস গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী। এরপর দীর্ঘ লড়াই আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত রায়গঞ্জের এইমস কল্যাণীতে চলে গিয়েছিল। ছড়িয়েছিল হতাশা। এবার সেই এইমসের দাবিতে সিলমোহর দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরের অন্য কোথাও নয়। রায়গঞ্জেই গড়ে উঠবে এইমস। এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন তিনি। সেই সঙ্গে জলপাইগুড়িতে গড়ে তোলা হবে ক্যানসার চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ার জনসভায় দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গের দুই প্রান্তের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দু’টি যুগান্তকারী হাসপাতালের সূচনার কথা জানান শুভেন্দু।

Advertisement

বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে রাজ্য সরকার ঠিক করেছে রায়গঞ্জের দীপনগরে এইমস তৈরি করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এইমস তৈরির যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে সঙ্গে নিয়ে এইমসের ভূমি পূজনের জন্য আমি রায়গঞ্জের দীপনগরে আসব। জলপাইগুড়িকেও নিরাশ করব না। সেখানেও তৈরি হবে একটি ক্যানসার হাসপাতাল। তার জন্যও সরকারি স্তরে তদারকি শুরু হয়েছে।
এদিন কর্ণজোড়া অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে কর্ণজোড়ার তিস্তা ময়দানে পরিষেবা প্রদান ও জনসভা করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই উত্তরবঙ্গে এইমস স্থাপনের বিষয়টি চর্চায় এসেছিল। রায়গঞ্জ না উত্তরের অন্য কোনো জেলায় এইমস স্থাপন হবে, তা নিয়ে চর্চা চলছিল। ২০০৮ সালে রায়গঞ্জ এইমসের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। কিন্তু বাম ও তৃণমূল আমলে তা বাস্তবায়িত হয় নি। এতে চরম আশাহত হয়েছিলেন উত্তর দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গবাসী। 
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি রায়গঞ্জের দীপনগরে এইমস তৈরি করার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর বার্তা দেওয়ায় আপ্লুত গোটা জেলা। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এনে এইমসের ভূমি পূজন হবে বলেও তিনি জানান। এইমস নিয়ে রায়গঞ্জবাসীর আলাদা আবেগ রয়েছে। সভা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘এইমস’ শব্দ উচ্চারিত হতেই জনগর্জনে ফেটে পড়ে গোটা সভাস্থল। রায়গঞ্জের বিজেপির নেতা, মন্ত্রী, বণিকমহল সর্বত্র খুশির আবেশ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী সিএএ প্রসঙ্গেও সরব হন। বলেন, সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সিএএ শংসাপত্র পাবেন শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা। করণদিঘির বিধায়ক তথা রাজ্যের আইন প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস ও জেলাশাসক অভিজিৎ শেভালেকে বলে দিয়েছি, বাংলাদেশ থেকে আসা একজনও শরণার্থী হিন্দু যেন রায়গঞ্জের জেলে না থাকেন। সেটা দেখতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া করতে হবে। আর যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের ধরতে  বিএসএফ এবং পুলিশকে খবর দিন। অনুপ্রবেশকারীদের সোজা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হবে।