ঘোষণাই সার! মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা কার্ড সক্রিয় হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ, জানাল স্বাস্থ্যভবনই, লক্ষ্য ৮০ লক্ষ পরিবার, অ্যাক্টিভেট ৮.২৬ লাখ
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২২ জুলাই মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে মিলেছিল অনুমোদন। ২৫ জুলাই জারি হয় আদেশনামা। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৬ আগস্ট। ইতিমধ্যে তিন-চার মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার কার্ড অ্যাক্টিভেট হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ উপভোক্তা পরিবারের। 

Advertisement

বিজেপি সরকার বাংলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের হাতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিল। আনুমানিক ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার পশ্চিমবঙ্গে বাকি চার কোটি মানুষের তাহলে কী হবে? পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে তুলনা করে বারবার এই প্রশ্ন উঠছিল। তখনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাকিদের কোনো চিন্তা করতে হবে না। ৮০ লক্ষ পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা কার্ড আসছে। 
ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ মানুষের কার্ড অ্যাক্টিভেট হওয়ায় আয়ুষ্মান ভারতের বেলায় বেশ সম্মানজনক জায়গায় আছে রাজ্য। কিন্তু হাতেকলমে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা কার্ড চালুর ব্যাপারে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়া অবস্থা। লক্ষ্য ছিল ৮০ লক্ষাধিক পরিবার। কার্ড অ্যাক্টিভেট হয়েছে মাত্র ৮ লক্ষ ২৬ হাজার পরিবারের! এই তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্যভবনই। দপ্তরের ওয়েবসাইটেই এই দুই স্বাস্থ্যবিমা কার্ড সংক্রান্ত আপডেট তুলে ধরা হয়েছে। 
কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। ওই বৈঠকের পরও কেটে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। তারপরও বিরাট কোনো বদল হয়নি। ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্যদপ্তর অনেকটাই ব্যর্থ, পাশাপাশি কার্ড চালু না-হওয়ায় ভোগান্তির একশেষ অবস্থা আয়ুষ্মান ভারতে নথিভুক্ত রাজ্যবাসীর। 
প্রশ্ন হল, কেন এই অবস্থা? একাধিক জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলছেন, স্বাস্থ্যসাথীতে নাম রয়েছে, কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতে নাম নেই, এমন ব্যক্তির মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এসব মানুষের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ৯ দফা নিয়মের বাইরে পড়ছেন। অনেকের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি। অনেকে ইতিমধ্যে ইএসআই বা বিভিন্ন ধরনের বিমাভুক্ত। এসআইআর-এ বিচারাধীন রয়েছে অনেকের নাম। ফলে ৮০ লক্ষাধিক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ঘোষণা হলেও বাস্তবে নিয়ম মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার যোগ্য প্রাপকের সংখ্যাই দেখা যাচ্ছে অনেক কম। ফলে একেবারে শাঁখের করাত অবস্থা দপ্তরের। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে ওসি হেলথ’দের আরও বেশি উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, যোগ্য প্রাপকদের খুঁজে বার করতে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পাশাপাশি ভেক্টর কন্ট্রোল টিমের সদস্যদেরও বাড়ি বাড়ি পাঠানো হবে।