Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিশুমৃত্যুতে তুলকালাম, চিকিৎসায় ‘গাফিলতি’! বাস ভাঙচুর

শিশুমৃত্যুতে তুলকালাম, চিকিৎসায় ‘গাফিলতি’! বাস ভাঙচুর
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গাফিলতির জেরে দেড় মাসের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। পরিবারের অভিযোগ, টিকা দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে শিশুটি মারা যায়। এমন ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে লাটাগুড়ির ক্রান্তি মোড়। শিশুর মৃত্যুর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাস্তা অবরোধে শামিল হন স্থানীয় বাসিন্দা সহ পরিবারের লোকেরা। উত্তেজিত জনতা সরকারি বাসে ভাঙচুর চালায়। অবরোধের জেরে চালসা থেকে জলপাইগুড়ি যাওয়া কয়েকশো গাড়ি রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। এমনকী বাইকও চলতে দেওয়া হয়নি। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। অবশেষে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। 

Advertisement

সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিস সুপার সমীর আহমেদ বলেন, অবরোধ উঠে গিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্ত করা হবে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যারা সরকারি বাস ভাঙচুর করেছে তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 
মৃত শিশুর বয়স দেড়মাস। বাড়ি ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়িতে। বাচ্চাটি দিন কয়েক আগে লাটাগুড়ির মহাকাল মোড়ে দিদার বাড়ি এসেছিল। বুধবার তার মা কবিতা অধিকারী ও বাবা কৌশিক অধিকারী তাকে উত্তর ঝাড়মাটিয়ালি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দিতে নিয়ে যান। টিকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাঁচি হয়। তখন কফ ও রক্ত নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা নিয়ে যান জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক দম্পতিকে জানিয়ে দেন তাঁদের সন্তান মারা গিয়েছে। শিশুর মা কবিতা অধিকারী বলেন, টিকা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর মারা যায়। 
পরিবারের লোকেরা মৃতদেহ কোলে নিয়ে ক্রান্তি মোড়ে ময়নাগুড়ি-লাটাগুড়ি ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তিনটি সরকারি বাস ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। সন্ধ্যায় ক্রান্তি ফাঁড়িতে শিশুর পরিবারের লোকেরা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসন বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপরই অবরোধ ওঠে। 
জলপাইগুড়ির সিএমওএইচ ডাঃ অসীম হালদার বলেন, তিনজনের তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। তাদের দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্ত হবে। ছ’সপ্তাহের শিশুর তিনটি ভ্যাকসিন দেওয়া কথা। তিনটিই ভ্যাকসিনই দেওয়া হয়েছিল। তবে কেন মারা গিয়েছে বলতে পারছি না। ওই ব্যাচের ভ্যাকসিন অনেক শিশুকেই দেওয়া হয়েছে। তারা সকলেই সুস্থ আছে। ওই দিন শিশুটিকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। রাত ২টোয় মৃত্যু হল কীভাবে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পর বলা সম্ভব।  পুলিসকে ঘিরে বিক্ষোভ। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ