Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছটপুজোয় ঘাট থেকে ফেরার সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট শিশু, রক্ষা দিদির

বাবা-মায়ের সঙ্গে গঙ্গার ঘাট থেকে ফেরার পথে ট্রলি ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল শিশুর

ছটপুজোয় ঘাট থেকে ফেরার সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট শিশু, রক্ষা দিদির
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাবা-মায়ের সঙ্গে গঙ্গার ঘাট থেকে ফেরার পথে ট্রলি ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল শিশুর। সোমবার রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার নিত্যধন মুখার্জি রোডের বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়ে। মৃতের নাম পুনম কুমারী (৩)। শিশুটির বাড়ি কেলভিন কোর্ট চার্চ রোডের রেল কলোনিতে। ট্রলি ভ্যান ও গাড়িটিকে আটক করেছে হাওড়া থানার পুলিশ। 

Advertisement

সোমবার বিকেলে শিশুটি বাবা-মা ও পাঁচ বছর বয়সি দিদির সঙ্গে হাওড়ার তেলকল ঘাটে ছটপুজো দিতে গিয়েছিল। রাত আটটা পর্যন্ত সেখানেই ছিল পরিবারটি। বাড়ি ফেরার সময় একটি ট্রলি ভ্যান ভাড়া করে তারা। ট্রলি ভ্যানের পিছনে চেপে কেলভিন কোর্ট রোডের বাড়িতে ফিরছিল তারা। নিত্যধন মুখার্জি রোড ধরে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়ের ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে আসতেই ট্রলি ভ্যানের পিছনের চাকা গর্তের মধ্যে পড়ে যায়। তীব্র ঝাঁকুনিতে ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে পুনম ও তার দিদি গুড়িয়া। ট্রলি ভ্যানের পিছনেই একটি ছোটো চারচাকা গাড়ি আসছিল। সেই গাড়ির যাত্রীরাও গঙ্গার ঘাটে ছটপুজো সেরে ফিরছিলেন। দ্রুতগতিতে আসা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে পুনমকে চাপা দিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে যায়। গাড়ির সঙ্গেই রাস্তায় ঘষা খেয়ে এগিয়ে যায় দেহ। কোনওক্রমে বেঁচে যায় গুড়িয়া। ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা দৌড়ে গিয়ে গাড়িটিকে আটকায়। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসা চলে তার। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসকরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। উৎসবের আবহে মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে শিশুটির পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে।
মৃত শিশুর পরিবারের সঙ্গেই তেলকল ঘাটে ছটপুজো দিতে গিয়েছিলেন প্রতিবেশী লক্ষ্মীদেবী। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে মুহুর্তের মধ্যে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। দুটি বাচ্চাই ট্রলি ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। গুড়িয়া রাস্তা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারলেও বোন পারেনি।’ মৃত শিশুটির বাবা অমরজিৎ মুখিয়া বড়োবাজারের একটি হোটেলের রান্নার কাজ করেন। মা পূজাদেবী পরিচারিকার কাজ করেন। এদিন দুপুরে হাওড়া পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের পর সন্তানের দেহ তুলে দেওয়া হয় বাবা মায়ের হাতে। ছোটো মেয়ের মৃত্যুতে কার্যত বাকশক্তি হারিয়েছেন তারা। এদিকে ছটপুজো উপলক্ষ্যে জিটি রোড, ফরশোর রোড দিয়ে যেভাবে যাত্রী বোঝাই করে ট্রলি ভ্যান বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশি নজরদারির অভাবেই এই দুর্ঘটনা বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ