Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিম্নচাপের জেরে দামোদর অববাহিকায় অতিবৃষ্টির আশঙ্কা, বৈঠক মুখ্যসচিবের

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার কলকাতার কাছ দিয়ে যাওয়ার ফলে এদিন সকাল থেকে শহর ও লাগোয়া এলাকায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে।

নিম্নচাপের জেরে দামোদর অববাহিকায় অতিবৃষ্টির আশঙ্কা, বৈঠক মুখ্যসচিবের
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার কলকাতার কাছ দিয়ে যাওয়ার ফলে এদিন সকাল থেকে শহর ও লাগোয়া এলাকায় বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে। তার আগে রবিবার রাত থেকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় দুই উপকূলবর্তী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে (লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকাসহ)। বেশকিছু জায়গায় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিমির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে যাবে। 

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস সোমবার সন্ধ্যায় জানান, পরবর্তী পর্যায়ে এদিন রাত থেকেই পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত বাড়বে। তারপর বৃষ্টি বেশি হবে ঝাড়খণ্ডে। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার জন্য সোমবার সকালেই অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির ‘লাল’ সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলির জন্য ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা দেওয়া হয়। মঙ্গলবারও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। আজ সকালের দিকে নিম্নচাপটি পশ্চিমাঞ্চল-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকায় থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই নিম্নচাপটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডের দামোদর অববাহিকায় বেশি পরিমাণে বৃষ্টির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। আর এটাই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ওই এলাকায় বেশি বৃষ্টি হলে ডিভিসির মাইথন-পাঞ্চেত বাঁধ থেকে বেশি পরিমাণে জল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই ডিভিসি রবিবার থেকেই ৩২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়তে শুরু করেছে। নিম্নচাপের অতিবৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ইতিমধ্যেই অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগের নিম্নচাপটির জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাগরদ্বীপে ১৩৬, হলদিয়ায় ১৩৪, দীঘায় ১১৩ ও ডায়মন্ডহাবারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য সেচদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমগাছিয়ায় (বিষ্ণুপুর-১ ব্লক) ২০৯ মিমি, বড়িশায় ১৯৩ মিমি, পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের ইতামগোড়ায় ১৭০ মিমি বৃষিট হয়েছে। আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতির জন্য সকাল পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণনায় বৃষ্টি বেশি হয়েছে।
নিম্নচাপটি সরে যাওয়ায় বিকেল থেকে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে। রবিবার সকাল থেকে এদিন বিকেল পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় কলকাতায় (আলিপুরে) মোট ৬০ মিমি, দমদমে ৩৫ মিমি এবং সল্টলেকে ৮২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে নবান্ন সভাঘরে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। জেলাশাসকরা ভার্চুয়ালি ওই সভায় যোগ দেন। দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাকেই ত্রাণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা তৈরি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে নবান্ন। বৈঠকে এই দুই জেলার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। সেচ, বিপর্যয় মোকাবিলা, কৃষি এবং স্বাস্থ্য দপ্তরকে এই দুই জেলা সহ হাওড়া, হুগলি এবং দুই চব্বিশ পরগনায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ