নিজস্ব প্রতিনিধি, মাঝুয়া (ডাবগ্রাম): মহানন্দা নদীর কোলে তৈরি হচ্ছে তিস্তাপল্লি। দেড়বছর আগে তিস্তা নদী গ্রাস করে লালটং ও চমকডাঙি গ্রাম। পাঁচদিন আগে দু’টি গ্রামের উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের জমির পাট্টা দিয়ে নতুন গ্রাম তিস্তাপল্লি গড়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গ্রামবাসীরা বাঁশ-কাঠ দিয়ে নয়া গ্রাম গড়তে ঝাঁপান।
এদিন পাহাড়-নদী-জঙ্গল ঘেরা গ্রামটি পরিদর্শন করেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা গৌতম দেব। আগামী ছ’মাসের মধ্যে বাংলার বাড়ি, মিশন নির্মল বাংলা, পথশ্রী প্রভৃতি প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে মডেল ভিলেজ বা আদর্শ গ্রাম গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যা বাংলার পর্যটন মানচিত্রে নয়া ঠিকানা হয়ে উঠবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা। এনিয়ে গ্রামবাসীরাও উচ্ছ্বসিত।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিকিমের হ্রদ বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল তিস্তা। সেবার তিস্তার থাবায় লালটং ও চমকডাঙি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেবাই প্রশাসন দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নিলেও গ্রামবাসীরা রাজি হননি। ২০২৪ সালের বর্ষায় গ্রাম দু’টি গ্রাস করে তিস্তা। জলপাইগুড়ি জেলার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় লালটং ও চমকডাঙি। এবার দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে মহানন্দা নদীর কোলে। গত মঙ্গলবার ফুলবাড়িতে প্রশাসনিক সভা থেকে তাঁদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনিই নতুন গ্রামটির নামকরণ করেন তিস্তাপল্লি।
জমির পাট্টা পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে এদিন থেকে দু’টি গ্রামের উদ্বাস্তু বাসিন্দারা তিস্তাপল্লিতে বাঁশ-কাঠ-টিন দিয়ে ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন। সেখানে ১৩১টি পরিবার রয়েছে। লোকসংখ্যা প্রায় ৫২৪ জন। অধিকাংশই গোপালক। কয়েকজন চাষাবাদ ও বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। গ্রামবাসী মোহন মুখিয়া, জীতেন শৈব বলেন, তিস্তার তাণ্ডবে ভিটেমাটি হারিয়ে কার্যত উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছিলাম। দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছিলাম না। গৌতম দেবের উদ্যোগে দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সহযোগিতায় পেয়েছি নয়া ঠিকানা। এখন কিছুটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব।
এদিন গ্রামে এসে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীদের জন্য প্রথমে শিবনগর সহ দু’টি জায়গা দেখা হয়েছিল। সেগুলি বনদপ্তরের জমি। প্রায় জঙ্গল সংলগ্ন। তাই ওদিকে না গিয়ে এখানে পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। পাট্টা দেওয়া হয়েছে। বাংলাবাড়ি প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ঘর, মিশন নির্মল বাংলায় শৌচাগার, পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তা, জলস্বপ্ন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ করে দেওয়া হবে। ছ’মাসের মধ্যে তিস্তাপল্লিকে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলা হবে। উত্তরকন্যার পাশের অধিকারী গ্রাম, শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মডেল বস্তির তৈরির অভিজ্ঞতাকে এখানে কাজে লাগানো হবে।
শিলিগুড়ি শহর থেকে তিস্তাপল্লির দূরত্ব মাত্র ১৩ কিমি। চম্পাসারি, দেবীডাঙা হয়ে সহজেই আসা যায়। মহানন্দার দু’টি বাঁধের মাঝে তৈরি করা হচ্ছে গ্রামটি। নির্মীয়মাণ বাড়িগুড়ি টং-ঘরের আদলে করা হচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা গৌতম ছেত্রী বলেন, নিশ্চিহ্ন হওয়া গ্রাম দু’টি ডাবগ্রাম-১ পঞ্চায়েতে ছিল। এবারও সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতেই তিস্তাপল্লি নামে গ্রাম দু’টি গড়া হচ্ছে। পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অভিরাম শৈব বলেন, প্রথম পর্যায়ে চারটি প্রধান রাস্তা, অঙ্গওয়াড়ি কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল, কমিউনিটি হল তৈরি করা হবে। মেয়র বলেন, পাহাড়, জঙ্গল ও নদীর পাশে এই গ্রাম আগামীতে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপ নেবে। যা বাংলা তো বটেই সমগ্র দেশের মধ্যে অন্যতম দর্শনীয় স্থান হবে।