Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর ‘মাটির সৃষ্টি’ পেল রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক স্তরে বড় স্বীকৃতি পেল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি ও পরিবেশভিত্তিক প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’।

প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর  ‘মাটির সৃষ্টি’ পেল রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক স্তরে বড় স্বীকৃতি পেল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি ও পরিবেশভিত্তিক প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্পকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী কনকচুড়, গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জি সুগন্ধী চালকে আন্তর্জাতিক স্তরের ‘খাদ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বা ‘ফুড অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ’-এর তকমা দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। এর আগে জিআই ট্যাগ পেয়ে দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিল এই তিন ধরনের চাল। এবার রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতির ফলে বিশ্বের শস্য মানচিত্রে জায়গা করে নিল এগুলি। এই খুশির খবর বুধবার সমাজমধ্যমে তুলে ধরে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির সুখা ও অনুর্বর জমিতে ফসল ফলানোর লক্ষ্যে ২০২০ সালে রাজ্যে চালু হয় ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প। অনাবাদি ও একফসলি জমিকে উন্নত করে বহুফসলি ও বছরভর চাষযোগ্য করে তোলাই ছিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৫০ হাজার একরের বেশি জমি চাষযোগ্য করে তোলা হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। 

Advertisement


মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় জমি সংস্কার, নতুন সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পুকুর খনন এবং জল সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু এলাকায় শাকসবজি ও ফলের চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও খাদ্য সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্প শুরুর সময় রাজ্যের পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছিল বিভিন্ন মহল। তাদের দাবি ছিল, পশ্চিমাঞ্চলের মতো এলাকায় যেখানে কম বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে এই প্রকল্প কোনোভাবেই সফল হওয়া সম্ভব নয়। তবে ধারাবাহিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রকল্পের দেখভাল করে গিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ মেনে কাজ করে গিয়েছেন একাধিক দপ্তরের আধিকারিক-কর্মীরা। কৃষকরাও রাজ্যের পরিকল্পনায় ভরসা রেখে এগিয়ে আসেন। তাই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে এদিন ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা। সেই সঙ্গে এফএও’র ডিরেক্টর জেনারেলের স্বাক্ষরিত শংসাপত্রের ছবি এদিন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।  সুগন্ধী গোবিন্দভোগ চাল উৎপাদনের জন্য বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এবং রায়না, তুলাইপাঞ্জির জন্য রায়গঞ্জ এবং কনকচুড়ের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের শংসাপত্রে। এর আগে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের জন্য রাজ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ