নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠান ঘিরে সৌজন্যের ছবি। মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে বিজেপির মন্ত্রী ও বিধায়কদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বিধায়করাও। পাশাপাশি তৃণমূলের কাউন্সিলারদের ‘উচ্ছ্বাস’ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ২১ বছর পর কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে পুরসভায় পেয়ে আপ্লুত কর্মীমহলও। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে কাউন্সিলারদের বদলে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় শংসাপত্রগুলি দেবেন স্থানীয় বিধায়ক। নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
এদিন পুরসভায় স্বচ্ছতা অভিযানের একটি কর্মসূচির উদ্বোধনে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাতে সাড়া দিয়ে তৃণমূলের বহু কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া দেবাশিস কুমার, জুঁই বিশ্বাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপারসন ও কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়, রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসু উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন দেবিকা চক্রবর্তী, লিপিকা মান্না, ডাঃ কাকলি সেন, অসীম বসু, মৌসুমি দাস প্রমুখ। সবমিলিয়ে তালিকা বেশ দীর্ঘ। এছাড়াও বন্দরের বিধায়ক ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা, কসবার জাভেদ খান, গার্ডেনরিচের আব্দুল খালেক মোল্লা, বেহালা পূর্বের শংকর শিকদার উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, পূর্ণিমা চক্রবর্তী ও ইন্দ্রনীল খাঁ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করা মাত্র রীতিমতো হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলারদের মধ্যে। পুরসভার কর্মী ও প্রাক্তন কাউন্সিলারদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে করতে মঞ্চ পর্যন্ত আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে, সেলফি তুলতে রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন প্রাক্তন কাউন্সিলাররা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দেন দু’নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কাকলি সেন। শুভেন্দুর সঙ্গে হাত মেলাতে ছুটে সামনের দিকে চলে আসেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সঙ্গে হাত মেলান, কয়েক সেকেন্ডের কথোপকথনও হয়। মালা রায়ের হাত ছুয়ে মাথা ঠুকে নমস্কার করতেও দেখা গিয়েছে শুভেন্দুকে। পরে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তাপস রায়ের পাশে বসান মালাদেবীকে। মঞ্চে মন্ত্রীদের পাশাপাশি ছিলেন ফিরহাদ, জাভেদ, সন্দীপনরা। ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলার মিনাদেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা, সজল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা-ওরা রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। সকলকে নিয়ে বিকাশ হবে। সবার সহযোগিতা চাই। আমি প্রথম দিন থেকেই সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদেরও ডেকেছি। কেউ এসেছেন, কেউ আসেননি। আমাদের কাছে এ পক্ষ, ও পক্ষ নেই। উন্নয়নই আমাদের পক্ষ।’ মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এদিন আপ্লুত সকলে। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলারদের বক্তব্য, কোনো মুখ্যমন্ত্রী এভাবে মিটিং করেননি। আশা করি উন্নয়নের কাজ ভালো হবে। পুরসভার কর্মীরা জানান, প্রায় ২১ বছর পর কোনো মুখ্যমন্ত্রী পুরসভায় এলেন। ২০০৪-’০৫ সালে সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কলকাতা পুরসভায় এসেছিলেন। অফিসারদের জন্য ভিডিও কনফারেন্স পরিষেবার উদ্বোধন করেছিলেন। তার প্রায় দু’দশক পর ফের কোনো মুখ্যমন্ত্রী পুরসভা প্রাঙ্গণে এলেন। এদিকে, বিকেলে বিধানসভায় এসে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম।