নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের ভারী বর্ষণে বিপর্যয় নেমে এসেছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় এখন শুধুই প্রকৃতির ধ্বংসলীলার চিত্র। জল নামা শুরু হতেই চারিদিকে দেখা যাচ্ছে রাস্তাঘাট, সেতুর কঙ্কাল। একরের পর একর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেঙেছে বহু বাড়িঘর। ঘরছাড়া বহু মানুষ। এই পরিস্থিতি বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসনের দিকে। তবে যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক উদ্ধারকাজের পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। সেই পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করতে আগামী সোমবার ফের উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরেছেন বুধবার। বৃহস্পতিবার নবান্নে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ফের উত্তরবঙ্গে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এবার তাঁর দার্জিলিং যাওয়ারও কথা রয়েছে। সেখান থেকেই তিনি পুনর্গঠনের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবারের বিপর্যয়ের পর দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজে নেমেছিল দমকল, পুলিশ, এসডিআরএফ, ডাক্তার, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের আধিকারিক ও কর্মীরা। তাঁদের তৎপরতায় বেঁচেছে বহু মানুষের প্রাণ। এই আধিকারিক-কর্মীদের রাজ্য সরকারের তরফে সম্মানিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন মমতা।
পুনর্গঠনের কাজ নিয়ে পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করেছেন বলে খবর। তাঁর নির্দেশে একাধিক মন্ত্রী ও পদস্থ কর্তারা ত্রাণ সরবরাহের কাজ করছেন উত্তরবঙ্গে। সেই সঙ্গে চলছে ক্ষতির পরিমাণ যাচাই। ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রী-আমলাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি উত্তরবঙ্গে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ত্রাণ বিলি করবেন বলেও জানা গিয়েছে।
তবে এই দুর্ভোগের সময় আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে। এর প্রতিবাদে বিমানবন্দরে তৃণমূলের কর্মী সংগঠনের সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি নিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যকে না জানিয়ে জলাধার থেকে জল ছাড়ার অভিযোগ আগেই ডিভিসি ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। এবার ঘেরাও হবে মাইথন ও পাঞ্চেত। ১১ অক্টোবর ঘেরাও হবে মাইথন। পাঞ্চেত ঘেরাও কর্মসূচির তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।