নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দপ্তর বণ্টন কবে হবে? কোন মন্ত্রী কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন? গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে এসংক্রান্ত নানা জল্পনা। মনে করা হচ্ছিল, অবশেষে শুক্রবার দপ্তর পাবেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া ৩৫ বিধায়ক। কারণ, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, শুক্রবার দপ্তর বণ্টন করা হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি যাত্রা সেই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। প্রাথমিকভাবে নবান্নের অন্দরমহল থেকে শোনা গিয়েছিল, দিল্লি থেকে ফিরেই নতুন মন্ত্রীদের পোর্ট ফোলিও ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও রাত পর্যন্ত দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা বা নির্দেশিকা জারি হয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পর কেটে গিয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছে ৪ মে। তার পাঁচ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও শপথ গ্রহণের পর দপ্তর পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। সেক্ষেত্রে অর্থ, পূর্ত, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য কারিগরি সহ একাধিক দপ্তর মন্ত্রী পাওয়ার অপেক্ষায়। জানা গিয়েছে, শনিবার দপ্তর বণ্টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোনো কারণে তা না হয়, সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী সপ্তাহের জন্য।
এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠান সেরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজধানীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। পাশাপাশি, দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে বিজেপির নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব ও দলের বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। ভূপেন্দ্র যাদব অবশ্য আড়াই ঘণ্টা বৈঠকে ছিলেন না। কিছু আগেই বেরিয়ে যান তিনি। যদিও সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা খোলসা করেননি কোনো পক্ষই।
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল ভেঙে ইতিমধ্যে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। সরু সুতোয় ঝুলছে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের ভবিষ্যৎও। বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নীতিন-শুভেন্দুর এমন দীর্ঘ বৈঠককে রীতিমতো ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, শুভেন্দুবাবু বৈঠক শেষে কলকাতায় রওনা দেওয়ার পরই এদিন সন্ধ্যায় দিল্লিতে আলাদাভাবে সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বিজেপির শীর্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যে তৃণমূলের কোন্দলে এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপিকে শুধুই নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বঙ্গ নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, কোনোমতেই যেন মনে না হয়, তৃণমূলের বিদ্রোহে মদত দিচ্ছে বিজেপি। দিল্লি বা উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে বলেও যেন কোনো ধারণা বিরোধী শিবিরে না ছড়ায়। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। শমীকবাবু স্পষ্টই বলেছেন, ‘তৃণমূলের কোনো নেতার সঙ্গে বিজেপি যোগাযোগ করেনি। বিধায়ক হোক কিংবা সাংসদ— যা হচ্ছে, তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ওদের কোনো কোনো নেতানেত্রী বিজেপিকে ফোন করছেন ঠিকই। কিন্তু আমরা সেগুলিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছি না।’ রাজ্য সভাপতির এমন মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, এবিষয়ে কতটা সাবধান রয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এদিন সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের একটি সম্ভাব্য তালিকাও জমা দিয়েছেন শমীকবাবু।