Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছুটিতে স্কুলে হ্যাকার হানা, ট্যাবের টাকা গায়েব 

ছুটিতে স্কুলে হ্যাকার হানা, ট্যাবের টাকা গায়েব 
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুজোর ছুটির পর স্কুল খুলতেই হইচই পড়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে ২৫টির বেশি স্কুলের পড়ুয়াদের টাকা লুট করেছে সাইবার হ্যাকাররা। সেই টাকা ঝাড়খণ্ডের বহু অ্যাকাউন্টেও চলে গিয়েছে। বুধবার এগরা, মহিষাদল, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা এনিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ জানান। পুজোর ছুটির মধ্যে চারটি স্কুলে এধরনের ঘটনা সামনে এসেছিল। মঙ্গল ও বুধবার আরও একগুচ্ছ স্কুলে এই ঘটনার খবর সামনে আসে। সেইমতো সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা এসে অভিযোগ জানান। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস থেকে প্রতিটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে মেসেজ পাঠিয়ে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে একাদশ ও দ্বাদশের প্রত্যেক পড়ুয়া টাকা পেয়েছে কিনা যাচাই করতে বলা হয়েছিল। যাচাই করতে গিয়েই জানা যায়, হ্যাকাররা বহু স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অনুদানের টাকা লুট করেছে।
Advertisement
মঙ্গলবার এগরা-১ ব্লকের নেগুয়া সুন্দরনারায়ণ হাইস্কুল, মহিষাদলের ভোলসরা দ্বারিকানাথ হাইস্কুল, কেশবপুর ভবতারণ বিদ্যামন্দির, কাঁথির খলিসাভাঙা হাইস্কুল সহ বহু জায়গা থেকে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা ডিআ‌ই অফিসে আসেন। বাংলার শিক্ষা পোর্টাল হ্যাক করে ছাত্রছাত্রীদের নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সরিয়ে হ্যাকাররা অন্য অ্যাকাউন্ট নম্বর এন্ট্রি করে দিয়েছে। গত ৪অক্টোবর গোটা রাজ্যে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মাথাপিছু ১০হাজার টাকা দেওয়া হয়। হ্যাকারদের এন্ট্রি করা অ্যাকাউন্ট নম্বরেও ওই টাকা ঢুকে গিয়েছে। এপর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় দু’শো ছাত্রছাত্রী তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের অনুদান থেকে বঞ্চিত বলে খবর। মঙ্গলবার বঞ্চিত অনেক ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা তমলুকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসে এসে এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে বিব্রত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসও।
পুজোর ছুটির মধ্যে এই জেলায় চারটি স্কুলে এধরনের ঘটনা সামনে এসেছিল। ওইসব স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা এনিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর করেছিলেন। কিন্তু, ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস ও জেলা প্রশাসন। যেকারণে গত ৩০অক্টোবর ওই চারটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) শুভাশিস মিত্র। এই এফআইআরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছে প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন। তারা অবিলম্বে এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। কিন্তু, বুধবার পর্যন্ত ২৫টির বেশি স্কুলে এই ঘটনা সামনে আসায় ওইসব স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কী এফআইআর হবে? এনিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
নেগুয়া সুন্দরনারায়ণ হাইস্কুলের করণিক শেখ সামসুল আলম এনিয়ে ডিআই অফিসে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে ১৩জন ছাত্রছাত্রীর টাকা হ্যাকারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। ডিআই অফিস থেকে থানায় এফআইআর করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, এগরা থানা এফআইআর নেয়নি। ভোলসরা দ্বারিকানাথ হাইস্কুলের অশিক্ষক কর্মী শান্তনু কানুনগো বলেন, আমাদের স্কুলে ১২জনের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। সেই টাকা বিহার, উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। এনিয়ে প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন এফআইআর হচ্ছে জানি না। 
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শুভাশিস মিত্র বলেন, আগে চারটি স্কুলে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। এখন আরও বেশকিছু স্কুলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্যই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ