দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ছট পুজোর ভিড় সামলানোর ‘অভিজ্ঞতা’র অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসেই নিউদিল্লি স্টেশনে কুম্ভের ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’ করতে গিয়েছিল নর্দার্ন রেল। আলাদা করে প্রশিক্ষণই নেওয়া হয়নি! আর এই ‘ওভার কনফিডেন্সে’র বলি ১৮টি তাজা প্রাণ। সোমবার রেলমন্ত্রকের শীর্ষতম সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই সদস্যর উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শনিবার রাতের বিপর্যয়ের তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রেল বোর্ডও কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছে। সরকারি সূত্রের খবর, রেল বোর্ডের সেই অভ্যন্তরীণ তদন্তেই প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়টি উঠে এসেছে। রেল বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পদপিষ্টের ঘটনায় নর্দার্ন রেলের বিরুদ্ধে চরমতম গাফিলতির অভিযোগ উঠতে চলেছে।
Advertisement
জানা যাচ্ছে, মহাকুম্ভ শুরুর আগেই যাত্রী-ভিড় সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে রেল বোর্ড বিভিন্ন জোন এবং শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে কয়েক দফায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে। সেখানেই নর্দার্ন রেলের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে রেল কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হোক। আরপিএফ, জিআরপি এবং স্টেশনের রেলকর্মীদের মধ্যে যাতে কোনও সমন্বয়ের অভাব না ঘটে, সেই লক্ষ্যে তাঁদের নিয়েও বৈঠক হোক। সরকারি সূত্রের খবর, নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবই পত্রপাঠ খারিজ করে দেওয়া হয়। বরং তারা কনফিডেন্সের সঙ্গে জানিয়ে দেয়—উৎসবের মরশুমে, বিশেষত ছটের সময় এহেন ভিড় প্রতি বছর ম্যানেজ করেন রেলকর্মীরা। তাঁদের অভিজ্ঞতা আছে যথেষ্টই। কারণ ছটের ভিড় শুধুমাত্র নিউদিল্লি স্টেশনেই নয়, পুরনো দিল্লি, আনন্দ বিহার টার্মিনালের মতো দিল্লি রেলওয়ে ডিভিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেও থাকে। সবটাই নর্দার্ন রেলের অধীনে। তাই শুধু কুম্ভের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। রেল সূত্রের খবর, এই ‘যুক্তি’ মেনে নেয় বোর্ডও। ফলে নর্দার্ন রেলের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির তত্ত্বই এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। কারণ রেল বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, ছট পুজোর সময়ের ভিড়, আর ১৪৪ বছর পরের মহাকুম্ভের ভিড় যে সমগোত্রীয় নয়, ‘ওভার কনফিডেন্সে’র কারণে তা আঁচই করতে পারেনি রেল। তার চরম পরিণতি হয়েছে গত শনিবার রাতে।
তবে ঘটনার পর নর্দার্ন রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কুম্ভ চলাকালীন নিউদিল্লি স্টেশন চত্বরে পৃথক ওয়েটিং জোন তৈরি করা হবে। শুধুমাত্র কুম্ভ স্পেশালের যাত্রীদের জন্য আলাদা ‘লাইন’ হবে। আরপিএফের নজরদারিতে ট্রেনে উঠবেন তাঁরা। তারা ঘোষণা করেছে, এক সপ্তাহ বিকেল ৪টে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিউদিল্লি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি বন্ধ। একমাত্র বৈধ টিকিটধারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন। তবে প্রবীণ নাগরিক কিংবা প্রতিবন্ধী যাত্রীর সঙ্গীদের ছাড় মিলবে।
তবে ঘটনার পর নর্দার্ন রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কুম্ভ চলাকালীন নিউদিল্লি স্টেশন চত্বরে পৃথক ওয়েটিং জোন তৈরি করা হবে। শুধুমাত্র কুম্ভ স্পেশালের যাত্রীদের জন্য আলাদা ‘লাইন’ হবে। আরপিএফের নজরদারিতে ট্রেনে উঠবেন তাঁরা। তারা ঘোষণা করেছে, এক সপ্তাহ বিকেল ৪টে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিউদিল্লি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি বন্ধ। একমাত্র বৈধ টিকিটধারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন। তবে প্রবীণ নাগরিক কিংবা প্রতিবন্ধী যাত্রীর সঙ্গীদের ছাড় মিলবে।



