Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছুটির আবেদন ছাড়াই টানা ৮ মাস কলেজে না এসেও মাইনে পাচ্ছেন শিক্ষক, ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা

ছুটির আবেদন ছাড়াই টানা ৮ মাস কলেজে না এসেও মাইনে পাচ্ছেন শিক্ষক, ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে টানা আট মাস আসছেন না একজন স্যাক্ট টিচার। এর ফলে দেশপ্রাণ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও তিনি নিয়মিত মাইনে পাচ্ছেন। টানা গরহাজিরায় গত ১৭ডিসেম্বর কলেজের গভর্নিং বডি একটি তদন্ত কমিটি গড়েছে। এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এনিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাছাড়া গরহাজির থাকা ওই শিক্ষকের ক্লাস নতুন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
Advertisement
দেশপ্রাণ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একজন অধ্যাপক এবং দু’জন স্টেট এইডেড কলেজ টিচার(স্যাক্ট) ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অশোক গিরি নামে একজন স্যাক্ট টিচার কলেজ সার্ভিস কমিশনে উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার একটি কলেজে যোগ দিয়েছেন। অপর স্যাক্ট টিচার সুজিত জানা গতবছর জুলাই মাস থেকে কলেজে আসছেন না। এর ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। সুজিতবাবু একটানা কলেজে গরহাজির থাকায় তাঁকে শোকজ করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে এক সদস্যের তদন্ত কমিটিও তৈরি হয়েছে। তারপরও তিনি কলেজে আসছেন না। অথচ, প্রতি মাসে মাইনে পাচ্ছেন।জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য তাঁর খোঁজে কলেজে চলে আসছেন। বিষয়টি কলেজের কাছেও অস্বস্তিকর। 
টিএমসিপি সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁর গরহাজিরার প্রতিবাদে অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দেশপ্রাণ কলেজ ইউনিটের সভাপতি নিমা‌ই দাস বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন পূর্ণ সময়ের অধ্যাপক এবং দু’জন স্যাক্ট টিচার ছিলেন। একজন স্যাক্ট টিচার সিএসসি পরীক্ষা দিয়ে চলে গিয়েছেন। সুজিত জানা টানা আট মাস কলেজ আসছেন না। এর ফলে ওই বিষয়ে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। 
এনিয়ে গভর্নিং বডির কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। গরহাজির স্যাক্ট টিচার সুজিত জানা বলেন, আমার বাবা অসুস্থ থাকায় আমি কিছুদিন কলেজ কামাই করি। তারপর বাবা মারা যান। সেইসময় আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়ে যাই। মোবাইলে রিচার্জ করার মতো অর্থ ছিল না। কয়েকজনের থেকে ধারবাকি করেছি। কিন্তু, তারসঙ্গে কলেজে না যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি গরহাজির থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ শোকজ করেছিল। আমি তার জবাব দিয়েছি। তারপর কলেজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কলেজ থেকে কোনও বার্তা আসেনি। আমি কলেজ যোগ দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। 
কলেজের অধ্যক্ষ সুবিকাশ জানা বলেন, উনি একটানা আট মাস কলেজে আসছেন না। কোনওরকম ছুটির আবেদন ছাড়াই তিনি অনুপস্থিত। যদিও তাঁর বেতন বন্ধ করা হয়নি। গরহাজির থাকা নিয়ে শোকজ করা হয়েছে। তাঁকে কলেজে আসতে কেউ নিষেধ করেনি। তাহলে কলেজে আসতে অসুবিধা কোথায়?
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ