নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার ছটপুজো পালিত হল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও আরামবাগে। পুরুলিয়া শহরের সাহেববাঁধে ছটের আয়োজন করছিল পুরসভা। সেখানে এদিন বিকেল থেকে ভিড় উপচে পড়ে। এছাড়াও পুরুলিয়ার কাঁসাই নদীতেও ছটের বন্দোবস্ত করেছিল প্রশাসন। তবে, সাহেববাঁধে ছট পালন নিয়ে শহরে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের দাবি, এক সময় পুরুলিয়া শহরে পানীয় জল সরবরাহ হতো এই সাহেব বাঁধ থেকে। কিন্তু, দিনের পর দিন এই সাহেববাঁধকে সংরক্ষণের বদলে দূষণের দিকে ঠেলে দিতে মদত দিচ্ছে পুরসভা।
Advertisement
বৃহস্পতিবার ছট উপলক্ষ্যে রঘুনাথপুর মহকুমার দামোদর নদের ঘাট সহ বিভিন্ন পুকুর ঘাটগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। এদিন নিতুড়িয়ার দামোদর নদ রঘুনাথপুর ও আদ্রা শহর, পাড়ার আনাড়া, সাঁতুড়ি, কাশীপুর সহ প্রতিটি ব্লক এলাকার পুকুর ঘাটগুলিতে পুজো দেওয়ার জন্য ভিড় জমান। পাশাপাশি এলাকার মানুষজন পুজো দেখতে শামিল হন। নিতুড়িয়া এলাকার দামোদর ঘাটে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। সেখানে পুলিসের তরফে সিসিটিভি, ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। ভিড় সামাল দিতে কয়েকটি জায়গায় পুলিস ক্যাম্প করা হয়। এদিন বাঁকুড়াতেও যথোচিত উপাচারের মাধ্যমে ছটপুজো হয়। দিনটি উপলক্ষ্যে বাঁকুড়ার বেশকিছু এলাকায় কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। ছটপুজো উপলক্ষ্যে দামোদর সহ জেলার বিভিন্ন নদনদী ও জলাশয়ে পুণ্যার্থীরা উপাসনা করেন। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত রাতভর আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। বাঁকুড়ার বাসিন্দা সৌভিক সাউ, রামবিলাস শর্মা বলেন, আমরা বিহারী সম্প্রদায়ভুক্ত। তবে দীর্ঘদিন ধরে এরাজ্যে বাস করছি। এখানেই প্রতিবছর ছটপুজো করে থাকি। বাড়ির মহিলারা নদী, জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে প্রার্থনা করেন। দামোদর নদে পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। আরামবাগেও ছটপুজোয় মাতেন বাসিন্দারা। এদিন আরামবাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুণ্যার্থীরা দ্বারকেশ্বর নদের ঘাটে আসেন। সেখানে তাঁরা রীতি মেনে সূর্য প্রণাম ও পুজো করেন। মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে যান আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী, ভাইস চেয়ারম্যান মমতা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।



