Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাতনায় পড়শি খুনে যুবকের যাবজ্জীবন, মহিলার উপর হামলায় কারাবাস বাবারও

ছাতনায় পড়শি খুনে যুবকের যাবজ্জীবন, মহিলার উপর হামলায় কারাবাস বাবারও
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ছাতনায় প্রতিবেশীকে খুনের দায়ে শুক্রবার এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম সুশান্ত রায়। তার বাড়ি ছাতনা থানার উপরগোড়া গ্রামে। এদিন বাঁকুড়ার জেলা ও দায়রা বিচারক মনোজ্যোতি ভট্টাচার্য তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।  ঘটনার সময় এক মহিলার উপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সুশান্তর বাবা হরিপদ রায়ের পাঁচ বছরের কারাবাস হয়েছে। একইসঙ্গে বিচারক দু’জনকে যথাক্রমে ৫০ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে ছ’মাসের সাজাও শুনিয়েছেন। বাপ-বেটার একই সঙ্গে সাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বর ও ছাতনা থানা এলাকায় দিনভর চর্চা হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, উপরগোড়া গ্রামের বাসিন্দা হরিপদ রায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী দুর্গাদাস রায়ের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল। ২০২১ সালের ১১ আগস্ট বিকেল ৩টে নাগাদ সুশান্ত সহ তিন ছেলেকে নিয়ে দুর্গাদাসের বাড়িতে হরিপদ চড়াও হয়। ওই সময় তাদের হাতে লাঠি, লোহার রড ও কুড়ুল ছিল। হরিপদ ও তার ছেলেরা দুর্গাদাসের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। ওইসময় বাড়িতে দুর্গাদাসবাবু ছিলেন না। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দুর্গাদাসের খুড়তুতো দাদা বছর সাতষট্টির তারাপদ রায় বেরিয়ে এসে গালিগালাজ করতে বারণ করেন। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। সেই সময় সুশান্ত কুড়ুল নিয়ে তারাপদবাবুর মাথায় আঘাত করে। কুড়ুলের ঘায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারাপদবাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওইসময় দুর্গাদাসের স্ত্রী শিবানী রায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তারাপদবাবুকে বাঁচাতে যান। হরিপদ লাঠি ও রড নিয়ে শিবানীদেবীর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হলে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। তারাপদ ও শিবানীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও পরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তিনদিনের মাথায় বাঁকুড়া মেডিক্যালে তারাপদর মৃত্যু হয়। মৃতের ভাইপো সব্যসাচী রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ছাতনা থানার পুলিস একটি মামলা রুজু করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার তিনমাসের মধ্যে পুলিস আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। মামলার সরকারি আইনজীবী অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, মামলায় ১৫জন সাক্ষ্য দেন। বিচারক সুশান্ত ও তার বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করে এদিন সাজা দেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ