Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছোট রাস্তায় ঢুকে পড়ছে বড় গাড়ি, নিত্য যানজটে নাকাল রানাঘাটবাসী

ছোট রাস্তায় ঢুকে পড়ছে বড় গাড়ি, নিত্য যানজটে নাকাল রানাঘাটবাসী
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কাকভোর হোক বা কর্মব্যস্ত দিন, রানাঘাট শহরের ছোট রাস্তায় প্রমাণ সাইজের লরি নিয়ে ঢুকে পড়া যেন কোনও ব্যাপারই নয়। প্রশাসনের ‘ঘুমন্ত’ দশার কারণে দিনের ব্যস্ত সময় শহরের রাস্তাগুলি প্রতিনিয়ত যানজট সমস্যায় ভুগছে। কেন রাতের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না শহরের ভিতরে লরি প্রবেশের জন্য? এমন প্রশ্ন করছেন শহরের অধিকাংশ মানুষ। তাঁরা চাইছেন, বড় মালবাহী গাড়ি শহরের ভিতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হোক। 
Advertisement
প্রাচীনত্বের কারণে স্বল্প পরিসরেই তৈরি হয়েছে রানাঘাট শহর। শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলি যেমন প্রয়োজনের তুলনায় কম চওড়া, তেমনই শহর ঘিঞ্জিও বটে। এর উপর আবার ছোট্ট শহরটির মধ্যে হাজার হাজার টোটো চলে। যা প্রয়োজনের তুলনায় যে অত্যধিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।। প্রতিদিন শহরের জিএনপিসি রোড, পালচৌধুরি স্ট্রিট, স্বামী বিবেকানন্দ সরণি, জগপুর রোড, ছোট বাজারে সব সময় একাধিক এলাকা এই টোটোর কারণে এক প্রকার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে। তার উপর যখন তখন শহরের রাস্তায় ঢুকে পড়ে বড় মালবাহী লরি। ছয় চাকা থেকে ১০চাকা পর্যন্ত লরি শহরের অপরিসর পথে ঢোকার ক্ষেত্রে কেন কোনও বাধা থাকবে না? প্রশ্ন শহরের বাসিন্দা অতনু বিশ্বাসের। তিনি বলেন, শহর যখন ছোট এবং তার রাস্তা যখন চওড়া নয় তখন রাতের নির্দিষ্ট একটি সময় লরি প্রবেশের জন্য নির্ধারিত থাকুক। সারাদিন যান নিয়ন্ত্রণ বলে তো শহরে কিছুই থাকে না। অন্তত এই সময়টা ভাগ করার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। দেবাশিস রায় বলেন, রানাঘাট শহরের রাস্তাগুলির যে অবস্থা তাতে চওড়া করার আর কোনও অবস্থা নেই। অথচ সেই রাস্তায় একটি ১০ চাকা লরি ঢুকে পড়লে কী অবস্থা হয় তা সরাসরি না দেখলে বলে বোঝানো যায় না। রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টা, এই সময়টা লরি প্রবেশে ছাড়পত্র দেওয়া হোক। দিনের যখন তখন শহরের অলিগলি পথে বিশাল বড় মালবাহী লরিগুলি যেন প্রবেশ না করতে পারে তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার বিপুল চক্রবর্তী বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা শুরু করেছি। বড় গাড়িগুলির জন্য শহরের বেশকিছু রাস্তা ওয়ানওয়ে করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের পুরসভায় বোর্ড মিটিং রয়েছে। সেখানে বিষয়টি আলোচনা হবে। সেই অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে তা এই বছরের শেষেই লাগু করে দেওয়া হবে। 
প্রসঙ্গত, কখনও কলকাতার দিক থেকে আবার কখনও শিলিগুড়ির দিক থেকে বড় বড় মালবাহী লরি শহরের ভেতর ঢোকে। এক্ষেত্রে ওল্ড বহরমপুর রোড অপেক্ষাকৃত চওড়া হলেও স্বামী বিবেকানন্দ সরণি অপরিসর। অথচ মালবাহী লরিগুলি মূলত যায় স্টেশন সংলগ্ন রেলবাজার অথবা রথতলা রেলগেট পার করে শহরের পূর্ব প্রান্তের মার্কেটগুলিতে। বলাই বাহুল্য, আগাগোড়া পুরো রাস্তাটিই সংকীর্ণ। একটি লরি সেই রাস্তায় ঢুকে গেলে গোটা রাস্তা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় দিনে-দুপুরে। দীর্ঘ সময় লাগে, সেই যানজট ছাড়তে। তাই শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার হাল অবস্থা ফেরাতে পুরসভা এবং পুলিস উপযুক্ত পদক্ষেপ চাইছেন শহরের মানুষ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ