Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছুটি ছাড়াই ‘গরহাজির’ প্রধান শিক্ষক, পরিদর্শনে গিয়ে ধরলেন চেয়ারম্যান

ছুটি ছাড়াই ‘গরহাজির’ প্রধান শিক্ষক, পরিদর্শনে গিয়ে ধরলেন চেয়ারম্যান
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: আচমকা পরিদর্শনে ধরা পড়ল প্রধান শিক্ষকের ‘অনিয়ম’। মঙ্গল ও বুধবার মালদহ সার্কেলের পুরাতন মালদহ ব্লকের কাদিরপুর নিউ জিএসএফ প্রাইমারি স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ডিপিএসসি চেয়ারম্যান বাসন্তী বর্মন। দু’দিনই তিনি দেখেন প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত ঘোষ উপস্থিত নেই। প্রধান শিক্ষক বলছেন শরীর খারাপ হওয়ার জন্য ছুটি নিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, দু’দিন ছুটি নিয়েছি। বৃহস্পতিবারও নেব। কার কাছে আবেদন করেছেন? উত্তর এড়িয়ে জয়ন্ত বলেন, শরীর খারাপ, ব্যস্ত আছি। 
Advertisement
যদিও মালদহ সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ভরত ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছুটির বিষয়ে তাঁদের কাছে আবেদন করেননি। মঙ্গলবার আচমকা ওই স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ডিপিএসসি চেয়ারম্যান। সেদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলেও বাকি শিক্ষক এবং মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। বুধবার চেয়ারম্যান সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের আগে স্কুলে পৌঁছে যান। তিনি দেখেন এক শিক্ষক গেটের তালা খুলছেন। পড়ুয়ারা বাইরে দাঁড়িয়ে। তালা খোলার পর দাঁড়িয়ে থেকে পড়ুয়াদের প্রার্থনা করান তিনি। সেই সময় পর পর দু’জন শিক্ষক স্কুলে হাজির হন।
প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, একই স্কুলে দু’দিন ভিজিট করলাম। প্রথম দিন দুপুর ১২টার দিকে, বুধবার ১১টার আগে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষকের দেখা পাইনি। তিনি অসুস্থ রয়েছেন বলে শুনেছি। স্কুলে পাঁচজন শিক্ষক। এক শিক্ষিকা ছুটি নিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কি ছুটি নিয়েছেন? বাসন্তী বলেন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে না জানিয়ে এসেছি। তাঁর কাছে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ছোট কাদিরপুরে এই স্কুলটি ১৯৭৩ সালে তৈরি হয়। ১০১ জন পড়ুয়া নিয়ে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চলছে। অতীতে মিড ডে মিল না দিয়ে ছুটি দেওয়া, স্কুলে  শিক্ষকদের মধ্যে বচসা,  এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের প্রতি খারাপ ব্যবহার, সঠিক সময়ে শিক্ষকদের একাংশ না আসার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এনিয়ে স্কুলে একাধিকবার বৈঠক হয়। অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন অভিভাবক ও বাসিন্দারা।
বুধবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল মাত্র ৪২ জন ছাত্র উপস্থিত। তিনটি ঘরে তিনজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, বছর দশেক আগে ১০ বছর আগে স্কুল জমজমাট ছিল। সেই শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা আর নেই। স্কুলে পড়াশোনা আগের মতো হয় না। প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যেই আসেন না। এবার শুনছি শরীর খারাপ হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ