Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছ’মাসের মধ্যেই বন্ধু-প্রেমিক জুটিয়ে চম্পট দাসপুরের গৃহবধূ

ছ’মাসের মধ্যেই বন্ধু-প্রেমিক জুটিয়ে চম্পট দাসপুরের গৃহবধূ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্বামী বাইরে থাকেন। বাড়িতে দুই কন্যা এবং অসুস্থ শ্বশুরকে নিয়ে ‘একঘেয়ে’ জীবন স্ত্রীর। স্ত্রীর একঘেয়েমি দূর করতে ‘বড় ফোন’ কিনে দিয়েছিলেন স্বামী। সেই বড় ফোনই হল কাল। ফোন পাওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই ছোট মেয়েকে নিয়ে বেপাত্তা দাসপুর থানার জোতঘনশ্যামের বাসিন্দা গৃহবধূ। সুপ্রিয়া জানা নামে ওই গৃহবধূকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলা খুঁজছেন স্বামী সুজয় জানা। দাসপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, সুপ্রিয়া গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ। এনিয়ে সুপ্রিয়ার বাপের বাড়ি লোকেরা এবং স্বামী থানায় এসেছিলেন। একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিস গৃহবধূর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে।
Advertisement
সুজয় পেশায় স্বর্ণশিল্পী। কলকাতার সিঁথির মোড়ে অন্যের দোকানে কাজ করেন। বছর বারো আগে এলাকারই ডোঙাভাঙা গ্রামের বাসিন্দা সুপ্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ছোটটি প্রি প্রাইমারিতে পড়ে। সুজয়ের মা অনেক দিন আগেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা রয়েছেন। অর্থনৈতিক কোনও সমস্যা নেই। স্ত্রী যখন যেটা চাইত, পেয়ে যেত। সুজয় যেহেতু বাড়ির বাইরে থাকতেন তাই স্ত্রীর হাতেই ছিল পরিবারের স্টিয়ারিং। সুজয় বলেন, ‘আমার স্ত্রীই তার মতো করে সংসার চালাত। আপদে বিপদে যাতে ওকে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য বাড়িতে নগদ এক-দেড় লক্ষ করে টাকাও থাকত।’
বর্তমান সমাজের হালহকিকত দেখে সুজয় তাঁর স্ত্রীকে স্মার্ট ফোন দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। তাঁর ধারণা ছিল ফ্রি কল, ইন্টারনেট  সহ স্ত্রীর হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিলেই সমস্যা হতে পারে। কিন্তু দুই মেয়ে পড়াশোনা করে। ওই স্বর্ণশিল্পীর বাবাও অসুস্থ। বাড়িতে সময় কাটানোর সমস্যা হচ্ছিল বলে সুজয়ের স্ত্রী তাঁর স্বামীকে মাস ছ’য়েক আগে স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরেন। সুজয়ের অমত থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর একঘেয়েমির কথা বিবেচনা করে স্মার্ট ফোনটি কিনে দেন। সুজয় বলেন, ‘আমি যেটা ভেবেছিলাম সেটাই হল। ফোন হাতে পাওয়ার এক দেড় মাস পর থেকেই প্রায়ই সময় স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন দেখতাম। ফোন করলে এনগেজ পেতাম। স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে কথা বলছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেত।’
সুজয় যখন কলকাতায় থাকাকালীন গত বৃহস্পতিবারে তাঁর স্ত্রী প্রতিবেশী একজনকে একটি মারুতি ভাড়া করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে জানা যায়, সেই গাড়িতে করেই সুপ্রিয়া বেপাত্তা হয়। সঙ্গে ছোট মেয়ে সহ বাড়ি থেকে ৫০ গ্রাম সোনার গয়না ও নগদ এক লক্ষ টাকাও নিয়ে গিয়েছে বলে স্বর্ণশিল্পীর অভিযোগ। পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়া জেলা সহ বহু জায়গায় খোঁজ চালানো হয়েছে গৃহবধূর। কিন্তু সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তুষ্ট গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকেরা। গৃহবধূর মা সরস্বতী শাসমল বলেন, ‘ওই মেয়েকে পেটে ধরছি ভাবতে ঘেন্না লাগছে। আমার জামাই খুব ভালো ছেলে। আমার মেয়ের কোনও অভাবও রাখেনি। তবুও কিসের জন্য অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে গেল ভেবে উঠতে পারছি না।’
সম্পর্কিত সংবাদ