Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাপোষা চাষি সেজে জঙ্গি-জাল বিস্তার বাংলায়! অসমের সেই নুর ছিল তারিকুলের ডানহাত

ছাপোষা চাষি সেজে জঙ্গি-জাল বিস্তার বাংলায়! অসমের সেই নুর ছিল তারিকুলের ডানহাত
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিল কুখ্যাত জেএমবি জঙ্গি তারিকুল ইসলাম। ঘটনার তিনমাস পরেই অসমের বাসিন্দা তথা আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য নুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে সে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে ২০১৫ সালে এনআইএ তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে। বিচারপর্ব শেষে তার দশ বছরের সাজা হয়। জেলে থাকাকালীন সে হাতে গোনা কয়েকজনের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখত। তাদের মধ্যে অন্যতম এই নুর। জেলে বসেই বিশ্বস্ত নুরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে এবিটি সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তারিকুল। নুরের মোবাইল ফোনের কললিস্ট দেখে এই তথ্য পায় অসম এসটিএফ। এবার তারিকুলকে নুরের সামনে বসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান গোয়েন্দারা। তাতে উঠে আসতে পারে এবিটি সংগঠনের ব্যাপারে আরও একাধিক গোপন তথ্য। এমনটাই মনে করছেন গোয়েন্দারা। 
Advertisement
তারিকুলই যে রাজ্যে এবিটি সংগঠনকে সাজানোর মূল দায়িত্বে ছিল, তা মোটামুটিভাবে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তদন্তকারীদের কাছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেঙ্গল এসটিএফের অফিসাররা জেনেছেন, এবিটি জঙ্গি সংগঠনের বিস্তারের জন্য জেলে বসেই টাকা তোলা শুরু করেছিল তারিকুল। নতুন প্রজন্মকে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য খারিজি মাদ্রাসা তৈরি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য অর্থ, আগ্নেয়াস্ত্র কেনা সহ নেটওয়ার্ক সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য টাকার দরকার ছিল। এই টাকা তোলার কাজ সে নুর ছাড়াও হরিহরপাড়ার আব্বাস আলি ও মিনারুল শেখকে কাজে লাগাতে শুরু করে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের সাজা পাওয়ার পর বহরমপুরের জেলে বসেই সে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে থাকে। নুরকে দিয়ে এই রাজ্যের পাশাপশি অসমের এবিটি নেটওয়ার্ক চাঙ্গা করে ফেলে তারিকুল। নুর ইসলাম ছিল তারিকুলের প্রধান অস্ত্র। নুরকে গ্রেপ্তারের পর তার ফোন কল খতিয়ে দেখে অসম এসটিএফ জানতে পারে, তারিকুলের সঙ্গে তার একাধিক কথোপকথনের হয়েছে। সেই সূত্র ধরে নুর ইসলামকে জেরা করে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।  
অসম এসটিএফের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নুরের সঙ্গে তারিকুলের যোগাযোগ রয়েছে তার প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। জেলে বসেই তারিকুল একটি নম্বর থেকে বারবার নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জেরায় নুর সে কথা জানিয়েছে। আমরা তাই তারিকুলকে হেফাজতে চাইছি। নুর এবং আব্বাস আলির সামনে মুখোমুখি বসিয়ে তাকে জেরা করা হবে।
নুর ইদানীং অসমের একটি গ্রামে চাষবাসের কাজ করত। কিন্তু গোপনে এবিটি সংগঠন বিস্তারের কাজ চালাচ্ছিল বলেই জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের আগে বর্ধমানের শিমুলিয়া মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিল সে। সেসময় তারিকুলকে প্রথম দেখেছিল সে। জেএমবিতে তরিকুলের ভূমিকা দেখে সে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এমনকী, পরবর্তী সময়ে আনুগত্য দেখিয়ে খুব তাড়াতাড়ি তারিকুলের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। তারিকুলের নির্দেশ মতো ২০২৪ সালে বাংলার নানা জায়গায় ঘুরেছিল নুর। এবিটিতে নতুন নিয়োগ ও জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে আব্বাস এবং মিনারুলের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল সে। তার এই কাজকর্ম চলত অত্যন্ত গোপনে। টের পেত না কাকপক্ষীও। তাই অসমের ওই গ্রামে ছাপোষা এক কৃষক বলে সবাই চিনতেন নুরকে। 
সম্পর্কিত সংবাদ