Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাপরা জেলে বন্দি কুখ্যাত অজয়কে জেরা করতে যাচ্ছেন দুঁদে অফিসাররা

ছাপরা জেলে বন্দি কুখ্যাত অজয়কে জেরা করতে যাচ্ছেন দুঁদে অফিসাররা
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল সংশোধনাগারে বন্দি সোনু গুপ্তা, তার টিম তাণ্ডব চালাচ্ছে বিহারজুড়ে। সংশোধনাগারে ব঩সেই কী সুবোধ সিংয়ের মতো ডাকাতির ব্লু প্রিণ্ট তৈরি করছে সোনু! পুলিসের কাছে অবশ্য তার থেকেও বড় খবর এসেছে। বিহারের সাহাজিতপুর থানার এলাকায় সোনার দোকানে লুট করতে গিয়ে পুলিসের জালে ধরা পড়েছে তার ডান হাত অজয়কুমার সিং। তার বিরুদ্ধে বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহারে অজস্র ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। ছাপরা জেলে বন্দি সেই কুখ্যাত ডাকাতকে জেরা করতে পাড়ি দিচ্ছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের দুঁদে অফিসাররা। তাকে শোন অ্যারেস্ট করে এনে জেরা করার পরিকল্পনাও রয়েছে পুলিসের। বাংলা পুলিসের হাতে কোনওদিন ধরা পড়েনি অজয়। পুলিসের আশা, তাকে নিজেদের হেফাজতে পেলে বহু মামলার সুরাহা হবে। 
Advertisement
গত বছর রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতির ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাড়া করে শিল্পাঞ্চলবাসীকে। বিপুল সোনা লুট করে পালানোর সময়ে পুলিসের সঙ্গে ডাকাতদলের গুলির লড়াই হয়। একজন ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়। তা সত্ত্বেও তারা পালাতে সমর্থ হয়। পরে পুলিস জানতে পারে, ডাকাত দলের পান্ডা সোনু গুপ্তাই গুলিবিদ্ধ হয়। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল লাগোয়া একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকেই প্রথমে পুলিস কাস্টডি, পরে আসানসোল সংশোধনাগারে বন্দি সোনু। শুধু সোনু নয়, রানিগঞ্জ থানার পুলিস অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে মিজোরাম বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত ছ’য় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু অধরা থেকে যায় অজয় ও সোনার দোকানে লুটের বিপুল অলঙ্কার। পুলিস জানতে পারে, এই গ্যাংয়ের সোনু আর অজয় হল ‘জয় আর বীরু’। সোনু যেমন ডাকাতিতে ওস্তাদ, তেমনি অজয় লুটের সোনা বিদেশে পাচারে দক্ষ। এই অবস্থায় হন্যে হয়ে অজয়ের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিস হাজির হয় বিহারের অতি প্রভাবশালী বাহুবলী নেতা শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে। অভিযোগ, তাঁর ছেলের গাড়ির চালকের সঙ্গে এই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে। যদিও সেখান থেকে পুলিসকে খালি হাতে ফিরতে হয়। জানা যায়, কিছুদিন পর থেকেই বিহারে সক্রিয় হয়ে ওঠে সোনুর গ্যাংয়ের সদস্যরা। যার নেতৃত্ব দিতে থাকে অজয়। গোপালগঞ্জ এলাকায় অজয় ৩১ জানুয়ারি টিম নিয়ে সাহাজিতপুর থানা এলাকায় একটি সোনার দোকানে ডাকাতি করতে ঢোকে। সেখানে পুলিসের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর সে গ্রেপ্তার হয়। সেই খবর আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটে আসতেই তাকে নিজেদের হেফাজতে পেতে তৎপর হয় পুলিস। পুলিস জানে, অজয়কে গ্রেপ্তার করে লুটের সোনার হদিশ পেলে তা পুলিসের বড় সাফল্যের উদাহরণ হয়ে থাকবে। পাশাপাশি সোনুর সঙ্গে অজয়কে একসাথে বসিয়ে জেরা করে বহু অপরাধের কিনারা করা সম্ভব বলে পুলিসের আশা। সেই আশাতেই সময় নষ্ট না করে অজয়কে জেরা করতে রওনা দিয়েছে পুলিস। কোর্টের অর্ডার নিয়ে তাকে শোন অ্যারেস্ট করার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। 
ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ ও শোন অ্যারেস্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ