নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বয়স মাত্র ১২ বছর। তাতেই মোবাইলের চরম নেশা। সেই নিয়েই বকাবকি করেছিলেন মা। অভিমানে গত রবিবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল ছেলে। ঘটনায় গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছেলের মৃত্যু শোক সামলাতে না পেরে দু’দিনের মাথায় মঙ্গলবার আত্মঘাতী হলেন মা। মৃতার নাম সুশীলা প্রামাণিক(৪২)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার কেন্দা থানার হরিহরপুর গ্রামে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুশীলাদেবীর স্বামী নীলকমল প্রামাণিক রাঁচিতে কাজ করেন। সাধারণ দিনমজুর পরিবার। দম্পতির মোট চার সন্তান। তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেই সবচেয়ে ছোট। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে আগেই। ১৬ বছরের মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন সুশীলাদেবী। স্বামী কাজে ছুটি পেলে মাঝেমধ্যে বাড়ি আসতেন। পুলিস সূত্রের খবর, গত রবিবার সকালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে সুশীলাদেবীর ছেলে বাপি প্রমাণিক। সে স্থানীয় বালকডি কেবিএম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। স্থানীয়রা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় ওই কিশোর কার্যত ফোনেই ডুবে থাকত। রবিবার ফোনে রিচার্জ শেষ হয়ে যায়। তাই সকালেই মাকে ফোন রিচার্জ করে দেওয়ার জন্য বলে। যদিও মা তাকে পাল্টা জানান, ‘রিচার্জ করে দিলে তো সেই সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকবি। পড়াশোনা করবি না। তার থেকে বরং থাক। রিচার্জ করব না।’ পুলিসের দাবি, এতেই অভিমান করে বসে ওই কিশোর। এরপর তার মা মাঠে ধান কাটতে চলে যান। ওই কিশোরও রাগ করে ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পুলিস জানিয়েছে, ওই সময় স্কুল যাবে বলে স্নান করতে গিয়েছিল কিশোরের দিদি। ফিরে এসে দেখে ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বহুবার ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ না পেয়ে সে প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে আসে। দরজা ভেঙে দেখে, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে ভাই। তাকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করে। ছেলের মৃত্যু শোক সামলাতে না পেরে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির সামনের একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন কিশোরের মা। পুলিসের দাবি, ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রতিবেশীদের অনেকেই মাকে দোষ দিচ্ছিলেন। অনেকেই জানিয়েছিলেন, ফোনটা রিচার্জ করে দিলে তো আর ছেলেকে হারাতে হতো না। এসব কথাবার্তাই মহিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
ছেলের মৃত্যুর পরেই বাড়িতে এসেছিলেন নীলকমলবাবু। কিন্তু দু’দিনের মাথায় স্ত্রীকেও হারিয়ে তিনি শোকে পাথর। বারংবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ভাই ও মাকে একসঙ্গে হারিয়ে বাপির দিদির মানসিক অবস্থাও ঠিক নেই। বাবা ও মেয়ে দু’জনেই বারংবার নিজেদের শেষ করার কথা বলছেন। পুঞ্চার বিডিও জিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পরিজনদের বলা হয়েছে বাবা ও মেয়েকে চোখে চোখে রাখতে। বুধবার সমাজকল্যাণ দপ্তর থেকে মনোবিদ পাঠিয়ে দু’জনেরই কাউন্সেলিং করা হবে।
তবে, এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সমাজকে। মোবাইলের আসক্তি সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এই ঘটনাই তার উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মোবাইলে আসক্তি একটি মানসিক রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট থেকে বড়- আধুনিক পৃথিবীর বাসিন্দারা এই মহামারীতে আক্রান্ত। ছোট সন্তানকে খাওয়ানোর সময় হোক কিংবা সন্তান কাঁদলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টফোন। সন্তানের বিপদ ডেকে আনছেন নিজেই। মোবাইল থেকে দূরে রাখতে সন্তানকে গল্পের বই পড়া, আঁকা খেলাধুলায় যুক্ত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিস জানিয়েছে, ওই সময় স্কুল যাবে বলে স্নান করতে গিয়েছিল কিশোরের দিদি। ফিরে এসে দেখে ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বহুবার ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ না পেয়ে সে প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে আসে। দরজা ভেঙে দেখে, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে ভাই। তাকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করে। ছেলের মৃত্যু শোক সামলাতে না পেরে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির সামনের একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন কিশোরের মা। পুলিসের দাবি, ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রতিবেশীদের অনেকেই মাকে দোষ দিচ্ছিলেন। অনেকেই জানিয়েছিলেন, ফোনটা রিচার্জ করে দিলে তো আর ছেলেকে হারাতে হতো না। এসব কথাবার্তাই মহিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
ছেলের মৃত্যুর পরেই বাড়িতে এসেছিলেন নীলকমলবাবু। কিন্তু দু’দিনের মাথায় স্ত্রীকেও হারিয়ে তিনি শোকে পাথর। বারংবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ভাই ও মাকে একসঙ্গে হারিয়ে বাপির দিদির মানসিক অবস্থাও ঠিক নেই। বাবা ও মেয়ে দু’জনেই বারংবার নিজেদের শেষ করার কথা বলছেন। পুঞ্চার বিডিও জিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পরিজনদের বলা হয়েছে বাবা ও মেয়েকে চোখে চোখে রাখতে। বুধবার সমাজকল্যাণ দপ্তর থেকে মনোবিদ পাঠিয়ে দু’জনেরই কাউন্সেলিং করা হবে।
তবে, এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সমাজকে। মোবাইলের আসক্তি সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এই ঘটনাই তার উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মোবাইলে আসক্তি একটি মানসিক রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট থেকে বড়- আধুনিক পৃথিবীর বাসিন্দারা এই মহামারীতে আক্রান্ত। ছোট সন্তানকে খাওয়ানোর সময় হোক কিংবা সন্তান কাঁদলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টফোন। সন্তানের বিপদ ডেকে আনছেন নিজেই। মোবাইল থেকে দূরে রাখতে সন্তানকে গল্পের বই পড়া, আঁকা খেলাধুলায় যুক্ত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



