Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলেমেয়েকে স্থানীয় স্কুলেই ভর্তি করতে হবে, নির্দেশ শিক্ষাদপ্তরের

ছেলেমেয়েকে স্থানীয় স্কুলেই ভর্তি করতে হবে, নির্দেশ শিক্ষাদপ্তরের
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের গ্রামের বা কাছের স্কুলের বদলে শহরের নামকরা স্কুলে ভর্তি করছেন। ফলে মফস্সলের স্কুলগুলোতে ছাত্র সংখ্যা দিনদিন কমছে। সেই সমস্যার সমাধানে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের স্থানীয় স্কুলেই ভর্তি করার নির্দেশ দিল শিক্ষাদপ্তর। শিক্ষাদপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ করে গ্রামের কোনও একটি স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে আবার নির্দিষ্ট কিছু স্কুলে ছাত্রছাত্রীর চাপ বাড়ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া সংখ্যার এই বৈষম্য দূর করার উদ্দেশে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। করিমপুর লাগোয়া অভয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, এই স্কুলে চারজন শিক্ষকথাকলেও এলাকার অনেক অভিভাবক তাঁদের ছেলেমেয়েকে দেড় কিমি দূরের করিমপুরেরকোনও স্কুলে ভর্তি করেন। আগের শিক্ষাবর্ষে স্কুলের মোট ছাত্র সংখ্যা ছিল৯৩ জন। গত বছর স্থানীয় ছাত্র ভর্তির এই নিয়ম চালু হওয়ায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১২০ জনে। নতুন শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নতুন নিয়মে করিমপুরজিএসএফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যা কমেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসৌভিক বিশ্বাস জানান, স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রসংখ্যা ৫৪৬ জনের জায়গায় গত বছর হয়েছিল ৪৬০ জন। এবছর পড়ুয়া ভর্তি চলছে। শেষ হলে বোঝা যাবে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, অনেক স্কুলে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় সেই সব স্কুলে সঠিক ভাবেপড়াশোনা হয়না। যে কারণে অভিভাবকরা ছেলেমেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনা শেখাতে দূরেরস্কুলে ভর্তি করেন। অনেকে সন্তানের সুশিক্ষার জন্য শহরেঘর ভাড়া নিয়েও থাকছেন। করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার জানান, এই নিয়ম আগেও ছিল কিন্তু তার প্রয়োগ ছিল না। যে কারণেবিশেষ করে গ্রামের স্কুল ছেড়ে শহরের স্কুলে পড়ানোর প্রবণতা বেড়েছিল। তার ফলেকিছু স্কুলে দিনের পর দিন ছাত্র ছাত্রীর চাপ বেশি হচ্ছিল। সেই জন্য এবছর চক্রেরমোট ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানানো হয়েছে যে, ছাত্র বা ছাত্রীর বাড়ি থেকেসর্বাধিক আড়াই কিমি দূরত্বের মধ্যে বা তার বাবা-মা স্থানীয় যে ভোট কেন্দ্রেভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সেই স্কুলে ভর্তি হতে হবে। নাহলে কিছু স্কুলেপরিকাঠামোর থেকে ছাত্র বেশি হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতিরব্যাপারে অভিভাবকদের অভিযোগের উত্তরে সোমদেববাবু বলেন, ছাত্রভর্তি শেষ হোক। তারপর প্রয়োজনীয় স্কুলে শিক্ষকদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।যে স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি সেখান থেকে সরিয়ে অন্য স্কুলে দেওয়াহবে। এই নিয়ম চলতে থাকলে পরবর্তীতে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সমস্যাও দূর হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ