সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রবিবার ভোরে চিতাবাঘের ডাকে ঘুম ভাঙে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারের প্রধানপাড়ার বাসিন্দাদের। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের পশ্চিম রেঞ্জের জঙ্গলের চিতাবাঘটি প্রধানপাড়ায় ত্রাস হয়ে উঠেছিল। বাঘবন্দি করতে খাঁচায় ছাগলকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিল বনদপ্তর। রবিবার ভোররাতে একটি বাঁশঝাড়ে ছাগলের লোভে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় চিতাবাঘটি ধরা পড়ে। আর এতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বাসিন্দারা। খাঁচাবন্দি স্ত্রী চিতাবাঘটির বয়সজনিত কারণে নখ-দাঁত ক্ষয়ে গিয়েছে। পায়ের থাবাও ক্ষয়ে গিয়েছে। সেই জন্য জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা চিতাবাঘটিকে জঙ্গলে না ছেড়ে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখার পরামর্শ দেন বনদপ্তরকে। সেই মতো এদিন চিতাবাঘটিকে সেখানেই পাঠানো হয়।
Advertisement
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নভজিৎ দে বলেন, বয়স হয়ে যাওয়ায় চিতাবাঘটিকে আর জঙ্গলে ছাড়ার ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। আপাতত দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বনদপ্তর মনে করছে বয়স হয়ে যাওয়াতেই চিতাবাঘটি সহজ শিকারের জন্য প্রধানপাড়ায় ডেরা বেঁধেছিল। ৬ ফেব্রুয়ারি শুকচান রায়ের শৌচাগারে ঢুকে গিয়েছিল। বনকর্মীরা ঘুমপাড়ানি বন্দুক ও জাল নিয়ে ধরতে যান। কিন্তু চিতাবাঘটি শৌচাগার থেকে বেরিয়ে পাশেই জঙ্গলের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। সেদিন জঙ্গলে পালানোর সময় চিতাবাঘটির হামলায় জখম হন নবিয়ার রহমান নামে একজন অরণ্যসাথী। তাঁর কব্জিতে থাবা বসিয়ে দিয়ে যায় চিতাবাঘটি। বাঘবন্দি করতে খাঁচা বসানোর দাবি ওঠে। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে বনদপ্তরও গ্রামে খাঁচা বসায়।



