Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাব্বিশের ভোটে দলকে শিক্ষা দিতে তৈরি নন্দকুমার, চণ্ডীপুরের নেতারা

ছাব্বিশের ভোটে দলকে শিক্ষা দিতে তৈরি নন্দকুমার, চণ্ডীপুরের নেতারা
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৪টি মণ্ডল কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। নন্দকুমার, চণ্ডীপুর সহ একাধিক জায়গায় মণ্ডল সভাপতি নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা বেজায় ক্ষুব্ধ। মণ্ডল কমিটির সভাপতির পদ থেকে তাঁদের সরানোর জন্য জেলা সভাপতিকে চিঠি দেওয়ার পরও সেই আর্জি রাখা হয়নি। এই অবস্থায় অনেকেই বসে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গোটা ঘটনায় বিপাকে পড়েছে গেরুয়া পার্টি। বিদ্রোহীদের দাবি, যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে পারফরম্যান্সের পরিবর্তে তোষামোদ গুরুত্ব পেয়েছে। যে কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের সামনে আনা হয়নি।
Advertisement
নন্দকুমার বিধানসভায় বিজেপির মোট পাঁচটি মণ্ডল রয়েছে। তারমধ্যে ৫নম্বর মণ্ডল নিয়ে দলের মধ্যে টানাপোড়েন থাকায় ওই কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি। বাকি চারটির মধ্যে ১, ২ ও ৩নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি হিসেবে নতুন মুখ আনা হয়েছে। কিন্তু, ৪নম্বর মণ্ডল কমিটিতে সভাপতি রদবদল করা হয়নি। মহাদেব মণ্ডল বিজেপির ৪নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি ছিলেন। রবিবার নতুন প্রকাশিত তালিকাতেও তাঁকেই ফের মণ্ডল সভাপতি রাখা হয়েছে। অথচ, মহাদেবকে সরানোর জন্য দলের একটা বড় অংশ জেলা সভানেত্রী তাপসী মণ্ডলকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু, জেলা সভাপতির স্নেহভাজন মহাদেব স্বপদে বহাল। আর এতেই বেজায় চটেছেন সাওড়াবেড়িয়া জালপাই-২গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ভবেশ বর্মন সহ আরও অনেকে। 
ভবেশবাবু বলেন, ২০২১সালে পঞ্চায়েত প্রধান থাকাকালীন আমি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করি। পার্টির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করি। মণ্ডল সভাপতি সবাইকে নিয়ে চলতে পারছেন না। তাঁকে সরানোর জন্য জেলা সভানেত্রী তাপসী মণ্ডলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই চিঠিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আবারও মণ্ডল সভাপতি হলেন তাপসীদেবীর পছন্দের তালিকায় থাকা মহাদেব। এর ফলে আগামী দিনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করব কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছি।
ভবেশবাবুর পাল্টা মহাদেব মণ্ডল বলেন, আমার মণ্ডল কমিটির অধীনে মোট চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত। সবকটি বিজেপি এবং বিজেপি সমর্থিত জোটের দখলে। এই মণ্ডলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছিল। ১০৯জনের মধ্যে সর্বাধিক ৮২জন আমাকে সমর্থন করেছেন। স্বাভাবিকভাবে দল মণ্ডল সভাপতি হিসেবে আমাকে বেছে নিয়েছে। ভবেশবাবু তৃণমূলের প্রধান থাকাকালীন অনেক অনিয়ম করেছেন। এখন বিজেপিতে এসে নীতিবাক্য শোনাচ্ছেন।
চণ্ডীপুর বিধানসভার ১নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি প্রশান্ত দাসের বিরুদ্ধে একঝাঁক নেতৃত্ব জেলা সভাপতির কাছে অভিযোগ জানিয়ে সরানোর আবেদন করেছিলেন। ১৩ফেব্রুয়ারি কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরূপকুমার দাসকে ওই চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বিজেপি পরিচালিত দিবাকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য‌, মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতি সহ অনেকেই সই করেন। মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে পার্টি তহবিলের টাকা নয়ছয় সহ ন’দফা দাবি আনা হয়। রবিবার কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় ১৬টি মণ্ডল কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। তারমধ্যে চণ্ডীপুর-১মণ্ডল কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির ফের সভাপতি হয়েছেন প্রশান্তবাবু। এই ঘটনায় দলের মধ্যেই ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। দিবাকরপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিমলকুমার বেরা বলেন, আমরা প্রশান্তবাবুকে সরানোর জন্য সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু, দল তাঁকে পুনরায় সভাপতি করেছে। এটা সাংগঠনিক বিষয়। আমরা নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। প্রাক্তন বুথ সভাপতি দিব্যেন্দু দাস বলেন, আগামী দিনে দল করব নাকি বসে যাব সেনিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে।
প্রশান্তবাবু বলেন, নেতৃত্ব আমাকে যোগ্য মনে করেছে, তাই ফের মণ্ডল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ