নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তখনও বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠা হয়নি। সেই সময় ধুমধাম করে ঠাকুর রামকৃষ্ণের জন্মতিথি উৎসব পালিত হয়েছিল এই বাড়িতেই। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে সেই উৎসব হয়ে উঠেছিল বর্ণময়। এমন অনেক ইতিহাসকে বুকে নিয়ে বেলুড়ের গঙ্গাপাড়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বেলুড়ের রাসবাড়ি। এই রাসবাড়ির ব্যক্তিগত সম্পত্তি তথা গঙ্গার ঘাটে ফি বছর আয়োজন হয় ছটপুজোর। কোনও অনুমতি না নিয়েই এখানে পুজোর নামে চলে বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ এমনটাই। এই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাসবাড়ির ওই ব্যক্তিগত ঘাটে এই বছর ছটপুজোর আয়োজন করা যাবে না।
জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁয়ের ছেলে পূর্ণচন্দ্র দাঁ ও তাঁর সহধর্মিণী কাদম্বিনী দাসী ১৮৯০ সালে বেলুড়ের রাসবাড়ি তৈরি করেছিলেন। ৪০ ফুট উঁচু নবরত্ন মন্দির, ২৪ ফুট উঁচু ছ’টি শিবমন্দির, নাটমন্দির, নহবতখানা, ভোগঘর ও বাগানজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস। এক সময় এখানে রাসের মেলা বসত। সেই থেকেই নাম ‘রাসবাড়ি’। তবে শিবকৃষ্ণের এই দেবত্র এস্টেট নিয়ে আইনি মারপ্যাঁচের কারণে আপাতত এই সম্পত্তি রয়েছে আদালত নিযুক্ত রিসিভার তথা হাইকোর্টের আইনজীবী দ্বিজদাস চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যক্তিগত ঘাটে প্রতি বছর এক রকম জবরদস্তি করে ছটপুজোর আয়োজন হওয়ায় রাসবাড়ি প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। ফি বছর গেট টপকে ঢুকে পড়ে বহু মানুষ। গঙ্গা সংলগ্ন পাঁচিল ও মাঠ-বাগান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবার ছটের সময় স্থানীয় ছট কমিটি দাঁ বাড়ির সম্পত্তিকে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’ হিসেবে দাবি করে স্থানীয়দের নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের পূজাবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে বিচারপতি জানতে চান, এটি কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি? রাজ্যের তরফে জানানো হয়, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও প্রতি বছর ছটপুজোয় প্রচুর মানুষ ওই ঘাটে জড়ো হন। মামলাকারী যদি এই বছর ওই ঘাট ব্যবহার করতে না দেন, সেক্ষেত্রে প্রশাসন বড়সড় অসুবিধার সম্মুখীন হবে। কারণ ওই এলাকায় ঘাটের সংখ্যা কম। কিন্তু রাজ্যের এই যুক্তি মানতে চাননি বিচারপতি। তিনি নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেলুড় ও হাওড়ায় একাধিক ঘাট রয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি কার্যত দখল করে ছটের আয়োজন করছে রাজ্য সরকার। চলতি বছর অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর ওই ব্যক্তিগত ঘাটে ছটপুজোর আয়োজন করা যাবে না। রাজ্যকে অন্য অস্থায়ী ঘাটে পুজোর আয়োজন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন না হন।