চলতি মরশুমে ইতিমধ্যেই কলকাতা লিগ ও আইএফএ শিল্ড জিতেছে মোহন বাগান। শেষবার ১৯৭৯ সালে একই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল পালতোলা নৌকা ব্রিগেড। বর্তমানের পাঠকদের জন্য ৪৭ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন প্রাক্তন ফুটবলার শ্যাম থাপা।
ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন মোহন বাগান। যে কোনো ট্রফি জয়ই মধুর। ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে তো কথাই নেই। চলতি মরশুমে ঘরোয়া লিগের পর শিল্ডও ঘরে তুলল মোহন বাগান। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর এক পরিচিত ফোনে জানালেন, শেষবার এমনটা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। তারপর ৪৭ বছরের ব্যবধানে সেই কৃতিত্ব অর্জন করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। গ্রিক কোচ পানোস সহ গোটা দলকে আন্তরিক অভিনন্দন।
কলকাতায় দুই প্রধানের জার্সিতে বহু ইতিহাসের সাক্ষী। সবুজ-মেরুন জার্সিতে সেই বিখ্যাত ব্যাকভলির কথা এখনও আলোচনা করেন অনুরাগীরা। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে তা সত্যিই গর্বের। সেই গোল নিয়ে মজার ঘটনা মনে পড়ছে। কোনো এক পুজোর আলোকসজ্জায় নাকি ব্যাকভলির মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছিল। তা নিয়ে জোর আলোচনা শুনেছিলাম সমর্থকদের মধ্যেই। যাই হোক, ১৯৭৯’র গল্পও তো কম রোমাঞ্চকর নয়। তার আগের মরশুমে ডুরান্ডে ইস্ট বেঙ্গলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয় মোহন বাগান। রোভার্সেও ওরকে মিলসের কাছে অপ্রত্যাশিত হার। স্বভাবতই প্রদীপদা প্রি সিজন শুরু করেছিলেন অনেক আগে। তারই সুফল মেলে লিগ, শিল্ডে। দলে সুব্রত, কম্পটন, প্রদীপ, মানস, গৌতমের মতো তারকা। আলাদা করে বলতেই হয় জেভিয়ার পায়াসের কথা। লাজুক, একটু সফট। কিন্তু বল যেন পোষা পাখি। স্কিলফুল ফুটবলার। সেবার আমার সঙ্গে পায়াসের কম্বিনেশন দারুণ জমেছিল। লিগে শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ এরিয়ান। ৩-১ গোলে জেতার পর সমর্থকরা নেমে এসেছিলেন মাঠে। মানস ভট্টাচার্যের লক্ষ্যভেদ ছাড়াও জোড়া গোল ছিল আমার। সমর্থকরা ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন। সেসব দিন ভোলার নয়। ঘরোয়া লিগে দুরন্ত ফর্মে ছিল মানস। যতদূর মনে পড়ছে, ওর সঙ্গেই যুগ্মভাবে সর্বাধিক গোলদাতা হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গলের সাবির আলি। দু’জনেরই নামের পাশে ২৩ গোল। সেবার প্রদীপদার কোচিংয়ে গোটা দলটাই চনমন করছিল। লিগের পর সবার নজর শিল্ডের দিকে। ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টের ফাইনালে ফের মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল ডুয়েল। কলকাতা জুড়ে টিকিটের হাহাকার। ট্রাম, বাস, চায়ের আড্ডায় শুধুই ফুটবল নিয়ে আলোচনা। সে কী উদ্দীপনা! শেষ পর্যন্ত ফাইনালে গৌতম সরকারের গোলে জয়লাভ করে মোহন বাগান। ওর দূরপাল্লার শট আছড়ে পড়েছিল প্রতিপক্ষের জালে।
এবার চলতি মরশুমের কথায় আসা যাক। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহন বাগানকে দেখে হতাশ হয়েছিলাম। তবে শিল্ডের খেতাবি লড়াইয়ে এ যেন অন্য দল। পরিকল্পনা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, তাগিদ সবেতেই বিপক্ষকে টেক্কা দিল পানোসের দল। ম্যাচের আগে অনেকেই ইস্ট বেঙ্গলকে এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বড়ো ম্যাচ সব হিসাবের বাইরে। দলগত সংহতির ফসল তুলল মোহন বাগান। জেলকোভিচের গোলে সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অপেক্ষার অবসান।



