দেবজিৎ ঘোষ: আইএসএলের শুরুতেই নর্থ ইস্টের কাছে হেরে হোঁচট খেয়েছিল মোহন বাগান। পুজোর আগে দিল্লির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও জয় সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়। দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার পর সোমবার যুবভারতীতে চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে নেমেছিল পানোস ব্রিগেড। তাই বিশাল, মনবীরদের প্রথম হোম ম্যাচ ঘিরে কৌতূহল ছিলই। কেমন খেলল মোহন বাগান? কট্টর সমর্থকও স্বীকার করবেন, জিতলেও মন ভরাতে ব্যর্থ ড্র্যাজিচ- জেলকোভিচরা। ৩ পয়েন্ট এলেও পানোস ব্রিগেডের স্পার্ক এখনও অধরা। মোহন বাগানের ঘাটতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল চেন্নাইয়ান। তেকাঠির নীচে বিশাল কাইথ না থাকলে ৩ পয়েন্ট জুটত কি না সন্দেহ। তবে আইএসএল সবে শুরু। গ্রিক কোচ নিশ্চয়ই ভুল শুধরে নেবেন। অন্যথায় আগামী দিনে সমস্যা আরও বাড়বে।
চলতি মরশুমে ধারাবাহিকতার বিচারে অন্যতম সেরা সাহাল। ব্যক্তিগত মত, ডুরান্ড কাপ ফাইনালে কেরালাইট ফুটবলারকে শুরু থেকে খেলানো উচিত ছিল। সোমবার চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে পানোসের দল নির্বাচনও বিস্ময়কর। চোটের কারণে মিগুয়েল ছিল না। তার অনুপস্থিতিতে সাহালকে বেঞ্চে রাখা কেন? ফিডার না থাকলে আরউইনকে বল বাড়াবে কে? জেলকোভিচ মূলত ডিফেন্সিভ ব্লকার। ধ্বংসাত্মক ফুটবলে পারদর্শী। দীপক টাংরির রিজার্ভে থাকারও যোগ্যতা নেই। ফলে প্রথমার্ধে একেবারেই দানা বাঁধেনি খেলা। দুই উইংয়ে বল স্যুইচ করার লোক নেই। থার্ডম্যান মুভও চোখে পড়েনি। মাঝমাঠ ও স্ট্রাইকারের মাঝে প্রচুর গ্যাপ। সামনের দিকে পাস বাড়াবে কে? বরং কয়েকটা স্পেলে তালাল, নিকোলারা রাজত্ব করল। দ্বিতীয়ার্ধে সাহাল নামার পর মোহন বাগানের আক্রমণে কিছুটা হলেও ধার বাড়ে। পাশাপাশি, ছাংতেকে লেফট উইং থেকে অপারেট করানো হল। প্রতিপক্ষ উইং ব্যাককে আক্রমণ করাই ছাংতের ট্রেডমার্ক। মুম্বই সিটিতে খেলার সময় ডানপ্রান্ত থেকে কাট করে ভিতরে ঢুকত ছাংতে। আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ছাড়া ছাংতের সেই ঝাঁঝ এখনও উধাও। অথচ এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। পানোসের হাতে তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড তুলে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। একাধিক ম্যাচ উইনার যে কোনও মুহূর্তে রং বদলের ক্ষমতা রাখেন। আক্রমণের তুবড়ি জ্বালানোর বদলে সেই দল এত ম্রিয়মান কেন? এমন ঢিলেঢালা,গয়ংগচ্ছ মনোভাব একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
মোহন বাগান ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন থাকছে। শুনলাম ছন্দে ফেরার মুখেই মিগুয়েলের চোট মাথাচাড়া দিয়েছে। ম্যাকলারেন এখনও আনফিট। টগবগে মিগুয়েলের সঙ্গে ম্যাকা থাকলে যে কোনও রক্ষণের কাছে চিন্তার কারণ। কিন্তু তা হচ্ছে কোথায়? হাফ চান্স থেকে জাল কাঁপানোর ক্ষমতা রাখে অজি স্ট্রাইকার। দলের স্বার্থে দ্রুত ম্যাকার ফিট হওয়া জরুরি।



