সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বোবা সেজে ছাত্রদের কাছে সাহায্য চাওয়ার নামে রেইকি করা হয়েছিল। তার পরদিন ভোরেই বিষ্ণুপুরের সরকারি কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হস্টেল থেকে পড়ুয়াদের দু’টি ল্যাপটপ ও আটটি মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয় ‘চেন্নাই গ্যাং’। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও টোটো চালকের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিস চুরির কিনারা করতে সক্ষম হল। দুর্গাপুরে একটি ভাড়াবাড়ি থেকে চেন্নাই গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ওই মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করে ছাত্রদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চুরির ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। গেটে রেজিস্টারে বহিরাগতদের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। পুলিস জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর একটি গ্যাং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরি করছিল। মূলত তারা বিভিন্ন কলেজের হস্টেলকে টার্গেট করত। চুরির আগে তারা হস্টেলে নানাভাবে রেইকি করে। তারপর আটঘাঁট বেঁধে ভোরের দিকে হানা দেয়। এক্ষেত্রেও চুরির আগের দিন গ্যাংয়ের একজন বোবা সেজে কলেজে ছাত্রদের থেকে সাহায্য চাইতে এসেছিল। কলেজের অধ্যক্ষ তন্ময় ঘোষ বলেন, হস্টেলে চুরির ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তিনটি গেটের মধ্যে দু’টি শুধুমাত্র কলেজ শুরু ও ছুটির সময় খোলা হয়। ওইসময় গেটে নিরাপত্তারক্ষীও থাকে। মেন গেটে ২৪ঘণ্টা রক্ষী মোতায়েন থাকে। বাইরের কেউ এলে তথ্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। ছাত্রদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, তামিলনাড়ু থেকে আসা চোরের দলটি দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন জেলার ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে হানা দিচ্ছিল। পড়ুয়ারা রাত জেগে পড়াশোনা করেন। ভোরের দিকে অনেকসময় তাঁরা দরজায় খিল না দিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা ভোরে হস্টেলে হানা দেয়। এর আগে বাঁকুড়া, বর্ধমানের বিভিন্ন হস্টেলে ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বোবা সেজে রেইকির পরদিন তিন দুষ্কৃতী টোটোয় চেপে কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আসে। আধঘণ্টার মধ্যে দু’টি ল্যাপটপ এবং আটটি মোবাইল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। কোকওভেন থানার সহায়তায় বিষ্ণুপুর থানার পুলিস তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। -নিজস্ব চিত্র



