চেলসি- ৩ : পিএসজি- ০
(পামার-২, পেড্রো)
চেলসি- ৩ : পিএসজি- ০
(পামার-২, পেড্রো)
নিউ ইয়র্ক: অবিসংবাদিত ফেভারিটের তকমা নিয়েই ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নেমেছিল পিএসজি। অথচ খেতাবি লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়ে শিরোপা জিতল চেলসি। তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের গায়ে হাত তুলে বিতর্কে জড়ালেন লুই এনরিকে। ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজতেই প্রতিপক্ষ কোচের সামনে গিয়ে উল্লাসে মাতেন চেলসি ফুটবলাররা। তখনই হোয়াও পেড্রিকে চড় মারেন স্প্যানিশ কোচ। ফলে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি। ম্যাচ শেষে অবশ্য গোটা ঘটনার জন্য বেশ অনুতপ্ত এনরিকে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি তখন অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আমি চেয়েছিলাম, দু’দলের ফুটবলারদের আলাদা করে দিতে। তবে এমন কিছু জিনিস ঘটে যা মোটেই কাম্য নয়। চাইলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলানো যেত।’ এনরিকে যতই সাফাই গান না কেন, ফিফা ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এমনকী, রেফারির রিপোর্টেও গোটা বিষয়টা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, চেলসির কোচ হিসেবে প্রথম ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে আপ্লুত এনজো মারেস্কা। প্রথমবার ৩২ দলের টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতে আগামী দিনে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে লড়াই করে খেতাব জয় অবশ্যই স্পেশাল। এভাবে চললে আগামী দিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের থেকেও ক্লাব বিশ্বকাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর তা যে খুব একটা অসম্ভব নয়, তা এই ফলই প্রমাণ করছে। পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে টুর্নামেন্টে খেলতে নামে। তাদের বিরুদ্ধে জেতা অবশ্যই আনন্দের।’
খাতায়-কলমে পিছিয়ে থাকলেও, রবিবার ফাইনালের শুরু থেকেই দাপট দেখায় চেলসি। অষ্টম মিনিটেই কোল পামারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ২২ স্কোরশিটে নাম তোলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। বাঁ দিক থেকে গতি বাড়িয়ে আক্রমণে ওঠেন মার্ক গুস্তো। বক্সের মধ্যে থেকে শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, তিনি বল সাজিয়ে দেন পামারকে। জাল কাঁপাতে ভুল করেননি এই তরুণ অ্যাটাকার (১-০)। মিনিট আটেক বাদেই নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি সেরে ফেলেন পামার। এবার ব্যক্তিগত দক্ষতায় প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলারকে কাটিয়ে প্রথম গোলের মতোই গড়ানো শটে পিএসজি গোলরক্ষক ডোনারুমাকে পরাস্ত করেন তিনি (২-০)। বিরতির আগেই পামারের পাস থেকে ৩-০ করেন পেড্রো।
প্রথমার্ধে তিন গোলে পিছিয়ে পড়লেও লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ এসেছিল পিএসজি’র সামনে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেন ডেম্বেলে-ভিতিনহারা। এই পর্বে বেশ কয়েকটি দুরন্ত সেভে দলের পতন রোখেন চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট স্যাঞ্চেজ। এরইমধ্যে ৮৫ মিনিটে চেলসির ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেল্লার চুল ধরে টেনে ফেলায় লাল কার্ড দেখেন হোয়াও নাভাস। সেটাই পিএসজি’র কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়।