নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নরেন্দ্রপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুরে নিখোঁজ ২৩টি পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দিল বারুইপুর পুলিশ জেলা। অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া দেহ শনাক্ত করা হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুরে নিখোঁজ থাকা ২২জনের পরিবারের সদস্যরা ডিএনএ নমুনা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু, ডিএনএ নমুনা যাচাই সময়সাপেক্ষ বিষয়। সেটা এখনও জানা যায়নি। তাই নিখোঁজদের এখনও সরকারিভাবে মৃত ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও অসহায় ওই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য। বুধবার বারুইপুর পুলিশ জেলার টিম পূর্ব মেদিনীপুরে সুতাহাটা, নন্দকুমার, তমলুক, ময়না ও পাঁশকুড়া থানায় যায়। ওই পাঁচটি থানার নিখোঁজ মোট ২২টি পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০লক্ষ টাকা করে চেক দেওয়া হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় নিখোঁজ থাকা তিন পরিবারের সদস্যের হাতে ১০লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।
এদিন সকালে সুতাহাটা থানার ওসির ঘরে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ হরিবল্লভপুর গ্রামে সুব্রত খাঁড়া ও নান্টু খাঁড়ার পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। সুব্রতর স্ত্রী সুমিত্রা সাহু খাঁড়া ও নান্টুর স্ত্রী সুদীপ্তা মাইতি খাঁড়ার হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। বিধায়ক তাপসী মণ্ডল, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক মিশ্র সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারপর নন্দকুমার থানায় উপস্থিত হওয়া নিখোঁজ তিনজনের পরিবারকে চেক দেওয়া হয়। দুপুর দেড়টা নাগাদ তমলুক থানায় আটজনের বাড়ির লোকজনের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। শালিকা গড়চক গ্রামের শশাঙ্ক জানার স্ত্রী জয়শ্রী মাইতি জানা, ১৭বছরের দেবাদিত্য দিণ্ডার মা শুভশ্রী দিণ্ডা, গোবিন্দ মণ্ডলের স্ত্রী মৌমিতা ঘোড়াই মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিণ্ডার ছেলে সৌরভ দিণ্ডা, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের উত্তর ধলহরা গ্রামের রাজু মান্নার স্ত্রী সুতপা বর্মন মান্নার হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। সুতপা বলেন, আমাদের চার বছরের ছেলে আছে। বাবার কী হয়েছে এখনও ছেলে কিছু জানে না। নিজের খেয়ালে ঘুরছে। এই বয়সে বাবাকে হারাল। এই টাকায় ছেলেকে বড় করতে চাই।
একইভাবে ময়না থানা থেকে সৌমিত্র মণ্ডল ও বুদ্ধদেব জানার পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পাঁশকুড়ায় মোট সাতজন নিখোঁজ। ওই থানা থেকেও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ পূর্ব চিল্কার শ্রীকৃষ্ণ মাইতির স্ত্রী মীনা সেনাপতি মাইতি, জয়দেব মাজির স্ত্রী বুল্টি মাজি, পশ্চিম চিল্কার প্রসেনজিৎ ঘড়ার স্ত্রী কবিতা ঘড়া, সমরেশ ফাদিকারের স্ত্রী রুম্পা ফাদিকার চেক সংগ্রহ করেন। সমরেশ নিজে এবং তার ভগ্নিপতি তপন দোলাই দু’জনে নিখোঁজ। রুম্পা বলেন, আমাদের এক বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। বাবাকে ঠিকমতো জানতে পারার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। সমরেশের বাবা নৃপেনবাবু বলেন, ছেলে ও জামাই দু’জনেই ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। মেয়ে আর বউমার মুখের দিকে তাকাতে কষ্ট হয়।
বুধবার চেক দেওয়ার সময় নন্দকুমার, তমলুক, ময়না ও পাঁশকুড়া থানায় ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে এইসব পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনও মেটানো সম্ভব নয়। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ম্যাচিং সময়সাপেক্ষ বিষয়। নিখোঁজ সদস্যরা পরিবারের রোজগেরে সদস্য ছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। এদিন ১০লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।