Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাঁদেরঘাটে গার্লস স্কুল সামলাচ্ছেন ১ শিক্ষিকা, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

চাঁদেরঘাটে গার্লস স্কুল সামলাচ্ছেন ১ শিক্ষিকা, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: মাত্র একজন শিক্ষিকা নিয়ে চলছে তেহট্ট থানার চাঁদেরঘাট গার্লস জুনিয়র হাইস্কুল। এই পরিস্থিতিতে গ্রামের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই এই স্কুলের ছাত্রীদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। গ্রামের মানুষ স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকার আবেদন জানালেও এখনও আর কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। শুরু থেকেই এভাবে স্কুলটি চলে আসছে। হেলদোল নেই শিক্ষাদপ্তরের। তেহট্টের এআই মনোতোষ বিশ্বাস অবশ্য বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। চাঁদেরঘাট  সহ আশেপাশের এলাকার ছাত্রীদের জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রয়োজন ছিল। এলাকার বাসিন্দারা বহুদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই দাবি পূরণ হয়। ২০১১সালে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের উদ্যোগে এই গার্লস জুনিয়র হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। সেসময় স্কুলে মাত্র ৩৪জন ছাত্রী ছিল। শিক্ষাদপ্তরের তরফে এই স্কুলের জন্য চারজন শিক্ষকের পদ তৈরি করা হলেও স্কুলে কোনও শিক্ষক ছিল না। ধীরে ধীরে স্কুলে ছাত্রীসংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১৫সালে ধোপট্ট হরিজন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এক শিক্ষিকাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। সেসময় স্কুলে একজন অতিথি শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে অবসর নেন। তারপর থেকে ওই একজন শিক্ষিকাই স্কুলে রয়েছেন। কোনও পার্শ্বশিক্ষকও নেই। সেজন্য গ্রামের বাসিন্দারা এলাকার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের ওই স্কুলে গিয়ে পড়াতে বলে। এখন এলাকার দুই যুবক ও এক যুবতী বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রীদের লেখাপড়া শেখান। ওই স্কুলে এখন ৮৭জন ছাত্রী রয়েছে। স্থায়ী শিক্ষকের অভাবে এবছর পঞ্চম শ্রেণিতে কোনও ছাত্রী ভর্তি হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা অচিন্ত্য বিশ্বাস, মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল ও সঙ্গীতা প্রামাণিক কোনও সাম্মানিক ছাড়াই স্কুলের ছাত্রীদের লেখাপড়া শেখান। তাঁরা জানালেন, শুধুমাত্র ভালোবেসে এই কাজ করেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ