নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মেমারিতে মাদক দুনিয়ায় সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল ‘চাচি’। স্বামীর হাত ধরেই সে এই কারবারে নামে। তার স্বামী প্রথমে ট্রাক চালাত। পরে তিনি গাঁজার কারবার শুরু করে। মেমারি থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই সে কাউন্টার চালু করেছিল। সে মারা যাওয়ার আগে স্ত্রীর হাতে কারবারের ভার দিয়ে যায়। তারপর থেকেই চাচির রমারমা শুরু হয়ে যায়। ১৫ বছর কারবার করার পর সে তার মেয়ে সঙ্গীতা সাহানিকে কারবারে নামায়। তারপর থেকে মা ও মেয়ে মিলে জমিয়ে গাঁজার ব্যবসা শুরু করে। বাড়িতেই গোডাউন তৈরি করে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা থেকে গাঁজা আনার পর গোডাউনে মজুত রাখত। বাড়ির একপাশে কাউন্টার ছিল। সেখান থেকে সাবডিলার ও নেশায় আসক্ত যুবকরা গাঁজা নিয়ে যেত। দিন-রাত ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। চাচির সঙ্গে প্রভাবশালীদের সুসম্পর্ক ছিল। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে প্রভাবশালীরা লোক পাঠিয়ে দিত। এক বৃদ্ধা বলেন, রাত ১২টার সময়ও ওদের বাড়িতে ক্রেতারা গাঁজা কিনতে আসত। চিৎকার করে চাচিকে ডাকত। কেউ কিছু বলার সাহস দেখাত না। আর এক গৃহবধূ বলেন, গাঁজা কিনে পাড়ায় বসেই অনেকেই সেবন করত। বাড়িতে মেয়েরা রয়েছে। তাদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। নেশাগ্রস্তরা পাড়ায় বসে গালিগালাজ করত। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাত না।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই মেমারির কৃষ্টি সিনেমাহলের পিছনে চাচির বাড়িতে তল্লাশি চলে। পুলিস আধিকারিকরা ছাগলের ঘর থেকে প্রায় ৪১লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। ৪৭কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে। স্থানীয়রা বলেন, পুলিস আরও আগে অভিযান চালালে মেমারিতে গাঁজার এত রমরমা হতো না। পাণ্ডুয়া, আসানসোল, বর্ধমান থেকে অনেকেই তাদের কাছ থেকে গাঁজা কিনে নিয়ে যায়। অনেকে আবার জিনিসপত্র বন্ধক রেখে গাঁজা নিয়ে যায়। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, এই কারবারে আর কারা জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই মেমারির কৃষ্টি সিনেমাহলের পিছনে চাচির বাড়িতে তল্লাশি চলে। পুলিস আধিকারিকরা ছাগলের ঘর থেকে প্রায় ৪১লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। ৪৭কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে। স্থানীয়রা বলেন, পুলিস আরও আগে অভিযান চালালে মেমারিতে গাঁজার এত রমরমা হতো না। পাণ্ডুয়া, আসানসোল, বর্ধমান থেকে অনেকেই তাদের কাছ থেকে গাঁজা কিনে নিয়ে যায়। অনেকে আবার জিনিসপত্র বন্ধক রেখে গাঁজা নিয়ে যায়। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, এই কারবারে আর কারা জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



