সংবাদদাতা, চাঁচল: ধুমধাম করে মাস পাঁচেক আগে বিয়ে হয়েছিল দিনমজুর পরিবারের আদরের বড়ো মেয়ের। বাবার বাড়ি থেকে বারবার পণ আনার জন্য চাপ দিচ্ছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শেষ পর্যন্ত বধূকে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। বধূর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম মিলি খাতুন (১৯)। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শনিবার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। স্বামী ও শ্বশুর, শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। শনিবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হলে শ্বশুর আলাউদ্দিন ও শাশুড়ি আবেদা বিবির ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়। মৃতার স্বামী মাসরেকুল আলমকে পাঁচদিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার রাঙাইপুরের বাসিন্দা দিনমজুর আরজাবুল আলির বড়ো মেয়ে মিলির বিয়ে হয় চাঁচল থানার হজরতপুরের মাসরেকুলের সঙ্গে। সে পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, পাঁচমাস আগে সামাজিক মতে বিয়ে হওয়ার পর মাস দুয়েক সবকিছু ঠিকই ছিল। তারপরেই স্ত্রীর উপর পণের দাবিতে অত্যাচার শুরু করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা। বাপের বাড়ি থেকে টাকা, বাইক ও আসবাবপত্র আনার জন্য বধূকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এনিয়ে মাঝেমধ্যে শ্বশুর, শাশুড়ি বধূর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। সপ্তাহ দুয়েক আগে ভিনরাজ্য থেকে কাজ করে বাড়ি ফিরেছে মাসরেকুল। তারপরেই অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাড়িতে স্ত্রীকে মারধর করতে থাকে সে। শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুর অত্যাচারে ইন্ধন জোগায়। মারধরের পর মিলিকে বিষ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ।
মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বধূকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। এরপরেই হাসপাতালের বাইরে দুই পরিবার বচসায় জড়ায়। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মেয়ের মৃত্যুর পরে শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা রিজিয়া বিবি। মৃতার মাসি ওজেনুর বিবি বলেন, পণের জন্য মেয়ের উপর অত্যাচার চালাত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শেষ পযর্ন্ত ওরা মেয়েটাকে মেরেই ফেলল।
চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বধূকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। এরপরেই হাসপাতালের বাইরে দুই পরিবার বচসায় জড়ায়। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মেয়ের মৃত্যুর পরে শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা রিজিয়া বিবি। মৃতার মাসি ওজেনুর বিবি বলেন, পণের জন্য মেয়ের উপর অত্যাচার চালাত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শেষ পযর্ন্ত ওরা মেয়েটাকে মেরেই ফেলল।
চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।



