Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করতে রাজ্যের কাছে অর্থের আবেদন

চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করতে রাজ্যের কাছে অর্থের আবেদন
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ওন্দা: ওন্দায় দ্বারকেশ্বর নদের উপর চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করতে এখনও ৩২ কোটি টাকা প্রয়োজন। ওই টাকা জোগাড় করতে তৎপর হয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তরফে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়ে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই সেতু অসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করতে না পারলে অসমাপ্ত সেতু ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা। 
Advertisement
বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩২ কোটি টাকা পেলে পূর্তদপ্তর ওই সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করবে। বিষয়টি রাজ্যস্তরে জানানো হয়েছে। 
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে ওন্দা ব্লকের দু’টি এলাকাকে জুড়তে দ্বারকেশ্বর নদের উপর ওই সেতুর কাজ শুরু হয়। সেতুর একদিকে ওন্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাবড়া এবং অন্যদিকে মাঝডিহা অঞ্চলের গামিদ্যা রয়েছে। ওই সেতু হলে ওন্দা ব্লক সদরের সঙ্গে একাধিক পঞ্চায়েতের দূরত্ব কমে যাবে। নিকুঞ্জপুর, সান্তোর এলাকা থেকে ওন্দার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার কমে যাবে। সেই কারণে সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাসিন্দারা সরব ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি মেনে কাজ শুরু হয়। কিন্তু বরাদ্দ অর্থে কাজ সম্পূর্ণ হবে না দাবি করে ঠিকাদার সংস্থা মাঝপথে কাজ ছেড়ে চলে যায়। তারপর করোনার লকডাউন ও পরবর্তী সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এখন বাকি কাজ করতে আরও টাকার দরকার। সেই কারণে জেলা প্রশাসনের তরফে রাজ্যের কাছে ৩২ কোটি টাকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। 
মাঝডিহা অঞ্চলের ভেদুয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা ওন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা পান বলেন, স্কুল ও টিউশন পড়তে আমাকে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। আগে নৌকো চলত। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। নদীর বুকে মোরাম, বোল্ডার ও হিউম পাইপ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জলস্তর বাড়লে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। বর্ষার মরশুমে স্কুলে যাওয়ার পর আকাশের কোণে মেঘ জমলেই বাড়ি ফিরতে না পারার আতঙ্ক গ্রাস করে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে ভালো হয়। 
গামিদ্যা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় সাইকেল মিস্ত্রি রাজীব গোস্বামী বলেন, আমি ওন্দার একটি দোকানে কাজ করি। দৈনিক দ্বারকেশ্বর পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। একবার হড়পা বানে ভেসে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছি। 
ওন্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চায়না কাইতি বলেন, আমাদের এলাকায় দ্বারকেশ্বর নদ প্রায় ৫০০ মিটার চওড়া। মাঝ নদীতে ছাত্রছাত্রীরা যাওয়ার সময় হঠাৎ করে হড়পা বান চলে এলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটবে। সেতুটি অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি সম্প্রতি বাঁকুড়ার রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার জন্য মন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দেন। জেলাশাসক উদ্যোগ নেওয়ায় কাজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।            
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ