Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চার্জশিটে ‘ফেরার’ ধর্ষণে অভিযুক্তরা রয়েছে বাড়িতেই! তাজ্জব আদালত, ভর্ৎসিত ওসি-আইও

এরপর একত্রে এই মামলার চার্জ গঠন করে শুরু করা হোক মামলার বিচার প্রক্রিয়া।

চার্জশিটে ‘ফেরার’ ধর্ষণে অভিযুক্তরা রয়েছে বাড়িতেই! তাজ্জব আদালত, ভর্ৎসিত ওসি-আইও
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: ২০২১ সালে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকার এক ধর্ষণ মামলায় চার অভিযুক্তের মধ্যে পুলিস দু’জনকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে চার্জশিট দিয়েছিল। পরবর্তী সময় সেই মামলা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য যায় বনগাঁর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারীর এজলাসে। আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি সেখানে চার্জ গঠনের সময় এই ধর্ষণ মামলায় জামিনে থাকা দুই অভিযুক্ত আদালতে জানায়, পুলিস যাদেরকে পলাতক দেখিয়েছে, তারা পলাতক নয়। তারা বাড়িতেই থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে খোদ বিচারক তাজ্জব বনে যান। তিনি এজলাসে থাকা সরকারি কৌঁসুলির উদ্দেশ্যে বলেন, এ তো দেখছি গুরুতর অভিযোগ, ভাবাই যায় না। তাহলে পুলিস এই ধরনের একটি ধর্ষণের মতো মামলায় কী তদন্ত করল? যদি তারা বাড়িতেই থাকে, তাহলে পুলিস কিসের ভিত্তিতে চার্জশিটে তাদেরকে ‘পলাতক’ দেখাল। এরপরই তিনি এই মামলায় পুলিসি তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এজলাসে বলেন, যখন দুই অভিযুক্ত বাড়িতেই আছে, তখন তাদের পুলিস গ্রেপ্তার করুক। তাদের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হোক। এরপর একত্রে এই মামলার চার্জ গঠন করে শুরু করা হোক মামলার বিচার প্রক্রিয়া। নাহলে এই মামলার শুনানি প্রক্রিয়া হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।    

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিচারক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই তড়িঘড়ি সরকারি তরফে ‘পলাতক’ দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আর্জি জানানো হয়। বিচারক তা মঞ্জুর করেন। ওই পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে বাগদা থানাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় তদন্তকারী পুলিস অফিসার ও থানার ওসির ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিস সুপারকে নির্দেশ দেন। আগামী ২৩ জুলাই এই মর্মে এসপিকে রিপোর্ট দেওয়ার কথাও বলেন বিচারক। বনগাঁ আদালতের সরকারি কৌঁসুলিদের একাংশের বক্তব্য, এমন ঘটনা এই আদালতে নজিরবিহীন। সে ক্ষেত্রে আদালত যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। 
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ডঃ নীরদরঞ্জন ঘোষকে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এটি যে পুলিসের চরম গাফিলতির কারণে ঘটেছে, তা জলের মতো পরিষ্কার। এমন একটি স্পর্শকাতর মামলায় পুলিস কেন দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করে হাত গুটিয়ে বসেছিল, সেটাই আমার কাছে একটা বড় বিস্ময় ও উদ্বেগের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ