নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রেপ্তারের ৭০ দিনের মধ্যেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হল তৃণমূলের যুবনেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে দেবরাজ সহ তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। ‘সিন্ডিকেট ক্রাইম’, তোলাবাজি, ভয় দেখানো সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ। এদিকে চার্জ গঠনের দিনই মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেবরাজের বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। সেই চার্জশিটে যুব তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা সরাসরি স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষরকারী হিসাবে নাম রয়েছে দেবরাজের।
মামলার সূত্রপাত বাগুইআটির একটি নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, আইন মেনে নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন এক প্রোমোটার। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই কাজ বন্ধ করে দেন দেবরাজ। প্রোমোটারের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সোনার গয়না বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়া হয় বলে তদন্তে দাবি। এরপর অবশ্য কয়েকদিন নির্মাণকাজ চলেছিল। কিন্তু ফের টাকা দাবি করায় শেষমেশ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওই প্রোমোটার বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি এবং ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় দেবরাজকে। এদিন মামলাটি দ্রুত শেষ করার আবেদন জানান বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আগামী দু’-তিন মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব। ৮ অক্টোবর থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বিভাসবাবুর বক্তব্য, দেবরাজ সহ তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে এদিন ‘সিন্ডিকেট ক্রাইম’-এর ধারাতেও চার্জ গঠন করা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে ভয় দেখানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এই ধারায় রাজ্যে সম্ভবত প্রথম চার্জ গঠন হল এই মামলায়।