নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চড়ক পুজোর উদ্যোক্তা দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দু’জনই গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে, অভিযুক্তদের দাবি, ওই যুবকরা মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের বাড়ির সামনে অভব্যতা করছিল। তার প্রতিবাদ করা নিয়েই গণ্ডগোল হয়।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগর এলাকার বাসিন্দা দুই যুবক রাতে চড়ক পুজোর নিয়ম অনুযায়ী মহানন্দা নদীতে যান। সেসময় নদীর পাড়ে কয়েকজন যুবক আড্ডা দিচ্ছিল। জখমদের অভিযোগ, চড়কের রীতি নীতি করার সময় আচমকা তাদের দিকে বোতল ছুঁড়ে মারা হয়। গালিগালাজ করা হয়। এরপরই তাঁরা নদী থেকে উঠে প্রতিবাদ করতে যান। সেসময় তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করলে এলাকার আরও এক যুবক বেরিয়ে এসে ওই অভিযুক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ। এরপরই এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা ভয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা জখমদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
যদিও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার কথা অভিযুক্তরা মানতে নারাজ। তাঁরাও পাল্টা মারধরের অভিযোগ জানিয়ে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন।
রবিবার সকালে চড়ক পুজোর দুই আয়োজককে হাসপাতালে দেখতে যান শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন। ঘটনার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিধায়কের দাবি উড়িয়ে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত বলেন, দুষ্কৃতীরা কোনও দলের হতে পারে না। একটি ঘটনা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করছেন বিধায়ক। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, দু’পক্ষের তরফে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।