নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছর ৮ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে আজ, শনিবার একাধিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ নবান্ন ও কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন অভয়ার মা-বাবা। তার আগের দিন, শুক্রবার পুলিস সাফ জানিয়ে দিল, নবান্ন ও কালীঘাট, কোথাও অভিযান করা যাবে না। কলকাতা ও রাজ্য পুলিসের তরফে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জন্য দু’টি বিকল্প জায়গা বেছে রাখা হয়েছে। সেখানেই কর্মসূচি করতে হবে। কেউ আইন অমান্য করলে ও সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, এদিনই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কালীঘাট অভিযান করা যাবে না। এই অভিযানকে ঘিরে বড় ধরনের গোলমাল পাকানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিসের উপর হামলারও ছক রয়েছে। নবান্ন অভিযানকে ঢাল করে একটি রাজনৈতিক দল বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবে।
ভবানী ভবনে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম বলেন, ‘নবান্ন অভিযানের আয়োজকরা পুলিসের কাছে কোনও অনুমতি চাননি। এই পরিস্থিতিতে পুলিস সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম থেকে যা জানতে পেরেছে, তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত বছর যারা এই ইস্যুতে নবান্ন অভিযান করেছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানিয়েছে যে এ বিষয়ে কিছু জানে না।’ এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘নবান্ন অভিযান নিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, প্রতিবাদ মৌলিক অধিকার। তবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও হিংসা বেআইনি। হিংসা থেকে বিরত থাকা, সম্পত্তি নষ্ট না করা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। নবান্ন রাজ্য সরকারের সচিবালয়। নিরাপত্তার নিরিখে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। হাওড়ার নগরপাল প্রবীণ ত্রিপাঠি ইতিমধ্যে নবান্ন চত্বরে ১৬৩ ধারা জারি করেছেন। সুতরাং নবান্ন এলাকায় সমস্ত ধরনের মিটিং-মিছিল, প্রতিবাদ নিষিদ্ধ।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘আদালতের রায় ধরেই বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দু’টি জায়গায় আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারবেন। এই দু’টি জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও জমায়েত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, ‘শনিবার বিকেলে অভয়া মঞ্চের কালীঘাট অভিযানের বিকল্প জায়গা দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন দিয়ে সর্বত্র নজরদজারি চলবে।’