নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত থাকল যাদবপুর। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্রদের বিক্ষোভ, অবরোধ, মিছিলের প্রভাব পড়ল রাস্তায়। যাদবপুরে তাণ্ডবের জেরে দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার একটি বড়ো অংশের যান চলাচল থমকে যায়। যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ, অবরোধের জেরে আনোয়ার শাহ রোড, রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোড, কালিকাপুর রোডে যানজটে কাহিল নিত্য যাত্রীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল রাতেই ১০০ ডায়ালে বিক্ষোভের খবর গিয়ে পৌঁছয় যাদবপুর থানায়। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেন তাঁরা। রাতেই একবার যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সমর্থকরা। সকাল হতেই সেই বিক্ষোভ অবরোধের রূপ নেয়। পাল্টা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এরফলে ৮বি মোড় থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তা একেবারে স্তব্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার এই রাস্তা বন্ধ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। জোড়া মিছিল যাদবপুর থানার সামনে চার মাথার মোড়ে গিয়ে পৌঁছয়। দু’পক্ষের তরফে রাস্তা অবরোধের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আনোয়ার শাহ রোড ও কালিকাপুর রোডে। লর্ডস মোড় থেকে যাদবপুরগামী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যানবাহন গল্ফগ্রিন দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়। আনোয়ার শাহ মোড় পর্যন্ত ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। সমস্যায় পড়ে তালতলার বেসরকারি হাসপাতালের রোগীরা। তাঁদের পৌঁছতে অনেকটাই দেরি হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণাপণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত বিরাট মিছিল করে বিক্ষোভ দেখায় একটি ছাত্র সংগঠন। দু’টি লেন সেই সময় যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভরদুপুরে এই মিছিলের জেরে দীর্ঘক্ষণ গোলাপার্ক-যাদবপুর, গোলপার্ক-বাঘাযতীন রুটে যানবাহন স্তব্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের কথায়, ‘যাদবপুরে কোনো ঘটনা ঘটলেই গোটা রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এটা পুলিশের দায়বদ্ধতা। অবরোধ, বিক্ষোভ হলেও রাস্তা ফাঁকা রেখে সাধারণ জন জীবনযাপন সচল রাখার কাজ পুলিশের।’